খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ই আগস্ট ২০২৬, ২:২৩ পিএম
সিলেট নগরীর রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকায় নিজ বাসা থেকে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুস সাত্তার, তাঁর স্ত্রী ও এক গৃহকর্মীর গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে এ ঘটনা জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসায় তিনজনের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে সিআইডি ও পিবিআইয়ের অপরাধ তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সদস্যরাও সেখানে গিয়ে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন।
মিতালী আবাসিক এলাকার সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক নাজু জানান, সকালে বাসার ভেতরে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা হতবাক হয়ে পড়েন। পরে দ্রুত বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হয়।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাতের কোনো একসময় দুর্বৃত্তরা প্রাচীরঘেরা ওই বাড়িতে প্রবেশ করে। এরপর আব্দুস সাত্তার, তাঁর স্ত্রী ও গৃহকর্মীকে গলা কেটে হত্যা করে তারা পালিয়ে যায়। হত্যাকাণ্ডের সময় বা তার আগে-পরে বাড়িতে অন্য কেউ উপস্থিত ছিলেন কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
নিহতদের শরীরে গলা কাটার আঘাতের পাশাপাশি অন্য কোনো আঘাতের চিহ্ন রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে কী কী আলামত পাওয়া গেছে এবং সেগুলো হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কীভাবে সম্পর্কিত, তা পরীক্ষা করছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
আব্দুস সাত্তার এলাকায় আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। একই বাসা থেকে একই পরিবারের দুই সদস্য ও একজন গৃহকর্মীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় রায়নগর ও মিতালী আবাসিক এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিপুলসংখ্যক মানুষ ঘটনাস্থলের আশপাশে জড়ো হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
সিলেট মহানগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর ধরন ও আঘাতের বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
হত্যাকাণ্ডের পেছনে পূর্বশত্রুতা, রাজনৈতিক বিরোধ, ব্যক্তিগত কোনো বিরোধ কিংবা অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ডাকাতির উদ্দেশ্যে হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। পুলিশ বলছে, সব সম্ভাবনাই বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ শুরু করেছে। ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা আলামত, সম্ভাব্য প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য এবং নিহতদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত এগোলে হত্যাকাণ্ডের কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে।
মন্তব্য