খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ই আগস্ট ২০২৬, ৪:১৯ পিএম
ডারউইন টেস্টে ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই দারুণ ছন্দে রয়েছে বাংলাদেশ। স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে শুরু থেকেই চাপে রেখে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দিকে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করছে টাইগাররা। তবে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের পাশে দাঁড়াচ্ছে কখনো প্রযুক্তি, কখনো আবার নিছক ভাগ্য। এমনই এক অবিশ্বাস্য ঘটনার সাক্ষী হলো ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংস।
শনিবার (১৫ আগস্ট) অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে শুরুতেই তিনটি উইকেট তুলে নিয়ে স্বাগতিকদের ওপর চাপ তৈরি করে বাংলাদেশ। নতুন ব্যাটারদের ক্রিজে টিকে থাকা কঠিন করে তুলছিল বাংলাদেশের পেস আক্রমণ। এমন পরিস্থিতিতেই ইনিংসের ৩১তম ওভারে তাসকিন আহমেদের বলে ঘটে যায় নাটকীয় ঘটনা।
তাসকিনের করা একটি ডেলিভারি ক্যামেরন গ্রিনের ব্যাটের কানায় লেগে সরাসরি স্টাম্পের দিকে যায়। বলটি লেগ স্টাম্পে আঘাতও করে। কিন্তু অবাক করার মতো বিষয় হলো, বেলস নড়লেও স্টাম্প থেকে পড়ে যায়নি। বলের গতিবেগ ও আঘাতের শক্তি বেলস ফেলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল না। ক্রিকেটের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, বেলস না পড়লে শুধু স্টাম্পে বলের স্পর্শ ঘটলেই ব্যাটারকে বোল্ড ঘোষণা করা যায় না। ফলে নিশ্চিত আউটের মতো পরিস্থিতি তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত বেঁচে যান গ্রিন।
পরে টেলিভিশন রিপ্লেতে স্পষ্ট হয়ে যায়, বলটি সত্যিই স্টাম্পে স্পর্শ করেছিল। দৃশ্যটি ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যেও বিস্ময় তৈরি করে। ধারাভাষ্যকক্ষে থাকা সাবেক অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটার অ্যালিসা হিলি রসিকতা করে প্রশ্ন তোলেন, ট্র্যাভিস হেড কি বেলসের সঙ্গে আঠা লাগিয়ে গিয়েছিলেন? তাঁর মন্তব্যে ঘটনাটির অস্বাভাবিকতাই আরও ফুটে ওঠে।
গ্রিনের এই বেঁচে যাওয়ার ঘটনা অবশ্য ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার ভাগ্যের প্রথম উদাহরণ নয়। প্রথম ইনিংসেও একই ধরনের আলোচনার জন্ম দিয়েছিল স্টিভেন স্মিথকে ঘিরে একটি ঘটনা।
ইবাদত হোসেনের করা একটি ডেলিভারি স্মিথের ব্যাটে লেগে উইকেটরক্ষক লিটন দাসের গ্লাভসে জমা হয়েছিল বলে মনে হয়েছিল। বাংলাদেশ জোরালো আবেদন করলেও মাঠের আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা আউট দেননি। বাংলাদেশ রিভিউ নিলে প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হয়। কিন্তু আল্ট্রএজে বল ব্যাটে লাগার নির্ভরযোগ্য স্পাইক পাওয়া যায়নি। ফলে মাঠের সিদ্ধান্তই বহাল থাকে।
ঘটনাটিকে আরও আলোচিত করে তোলেন স্মিথ নিজেই। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, বলটি ব্যাটে লাগার অনুভূতি তিনি পেয়েছিলেন। তাঁর এই স্বীকারোক্তির পরও প্রযুক্তিগত প্রমাণের অভাবে বাংলাদেশ উইকেটটি পায়নি।
একই টেস্টে গ্রিনের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত ত্রুটি নয়, বরং ক্রিকেটের নিয়ম ও ভাগ্যের অদ্ভুত সমন্বয় অস্ট্রেলিয়াকে রক্ষা করল। একটি বল স্টাম্পে আঘাত করেও বেলস ফেলতে না পারায় ব্যাটার বেঁচে গেলেন। অন্যদিকে স্মিথের ঘটনায় ব্যাটে বল লাগার অনুভূতি থাকলেও প্রযুক্তিগত প্রমাণ না থাকায় সিদ্ধান্ত বদলায়নি।
বাংলাদেশের জন্য ঘটনাগুলো নিঃসন্দেহে হতাশাজনক। তবে টেস্ট ক্রিকেটে এমন মুহূর্তই ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারে। একটি উইকেট কখনো পুরো ইনিংসের চেহারা পাল্টে দেয়, আবার একটি অল্পের জন্য বেঁচে যাওয়া ব্যাটার পরবর্তীতে দলের স্কোরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন। ডারউইন টেস্টে তাই বাংলাদেশের বোলারদের সামনে শুধু অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদেরই নয়, ভাগ্যের এমন অদ্ভুত পরীক্ষারও মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
মন্তব্য