খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ই আগস্ট ২০২৬, ১০:৩৫ পিএম
জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় চোর সন্দেহে দুই যুবককে তুলে নিয়ে অমানুষিক নির্যাতন ও পিটিয়ে হত্যার এক নৃশংস অভিযোগ উঠেছে। বর্বর এই ঘটনায় লাল বাদশা (১৮) নামের এক তরুণ ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছেন। একই ঘটনায় তাঁর বন্ধু মাইদুল (১৮) মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মামুদপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত মহব্বতপুর পদ্মপুকুর এলাকায়।
পুলিশ ও নিহতের স্বজনদের সূত্রের তথ্যমতে, নিহত লাল বাদশা ক্ষেতলাল উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের আলমপুর আদর্শ গ্রামের বাসিন্দা জামাল হোসেনের ছেলে। আর জীবনযুদ্ধে লড়ে যাওয়া আহত মাইদুল একই এলাকার ইব্রাহিম হোসেনের ছেলে। সমবয়সী এই দুই তরুণ একে অপরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন।
ঘটনার স্থান ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণে জানা যায়, শনিবার সকালে মহব্বতপুর পদ্মপুকুর এলাকার একটি মাঠের পাশের রাস্তায় দুই যুবককে রক্তাক্ত ও নিস্তেজ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে ক্ষেতলাল থানা পুলিশ দ্রুত সেখানে পৌঁছায়। পুলিশ সদস্যেরা ঘটনাস্থল থেকে লাল বাদশাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেন। পাশাপাশি গুরুতর আহত মাইদুলকে উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার জন্য ক্ষেতলাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়।
হাসপাতালের বেডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঘটনাটির ভয়াবহ বর্ণনা দেন আহত মাইদুল। তিনি জানান, জামালগঞ্জ চারমাথা এলাকা থেকে কয়েকজন ব্যক্তি তাঁদের ডেকে নিয়ে যায়। পরে একটি নির্জন ঘরের মধ্যে বন্দি করে তাঁদের ওপর চালানো হয় অমানুষিক নির্যাতন। বাঁশ ও কাঠ দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হলে দুজনেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। হামলাকারীরা তাঁদের মৃত ভেবে মাঠের নির্জন স্থানে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
মর্মান্তিক এই ঘটনায় পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, অপরাধী হলেও কাউকে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে এভাবে পিটিয়ে মেরে ফেলার কোনো সুযোগ নেই।
ক্ষেতলাল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুক্তারুল আলম জানান, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে চোর সন্দেহে গণপিটুনি ও নির্যাতনে এই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। তবে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো শত্রুতা বা কারণ লুকিয়ে আছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ৪০০ শয্যাবিশিষ্ট জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের শনাক্ত ও দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক দল ইতিমধ্যেই অভিযানে নেমেছে এবং মামলা দায়েরের আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
মন্তব্য