খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ই আগস্ট ২০২৬, ১১:৫৬ পিএম
১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে শেরপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে গভীর রাতে মিছিল, স্থানীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও খাবার বিতরণের চেষ্টার অভিযোগে আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের ছয় নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ১৪ আগস্ট গভীর রাত থেকে শুরু হওয়া বিভিন্ন অভিযানে তাঁদের আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন—শেরপুর পৌর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ও গৃর্দানারায়ণপুর ব্যাপারীপাড়া এলাকার বাসিন্দা খোকন ইসলাম (২০), শেরপুর সদর উপজেলার চর শেরপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আতাউল ওরফে জুয়েল (৪৬), নালিতাবাড়ী উপজেলার নুনী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সোহেল রানা (২৫), রূপনারায়নকুড়া ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাইনুদ্দিন (৩৫), ঝিনাইগাতী উপজেলা যুবলীগের প্রচার সম্পাদক মো. আজাহার আলী (৩৬) এবং ঝিনাইগাতী উপজেলা ছাত্রলীগের সদস্য মো. মুসলিম উদ্দিন ওরফে আরাফাত (১৯)।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কিছু কর্মী-সমর্থক শেরপুর জেলা ও বিভিন্ন উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে মধ্যরাতে মশাল মিছিল, শোক মিছিল এবং নিরিবিলি স্থানে জমায়েত হয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণের কর্মসূচির আয়োজন করেন। এসব ঝটিকা কর্মসূচির স্থিরচিত্র ও ভিডিও চিত্র ধারণ করে পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে এলে ফেসবুকের ছবি ও ভিডিও ক্লিপ দেখে জালের মতো ছড়িয়ে থাকা একাধিক গ্রুপকে শনাক্ত করা শুরু হয়। জেলা পুলিশের একাধিক টিম একযোগে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চিহ্নিত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
অভিযানের বিষয়ে শেরপুরের পুলিশ সুপার এ কে এম জহিরুল ইসলাম জানান, আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা রাতের আঁধারে বিভিন্ন প্রত্যন্ত গ্রামে ও শহরের কিছু প্রধান সড়কে ঝটিকা মিছিলের চেষ্টা করছেন এবং ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে জনমনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন। খবর পেয়ে পুলিশের অভিযান জোরদার করা হয়েছে। সর্বশেষ অভিযানে ওই প্রক্রিয়ায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে এই ছয়জনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
শেরপুরের বিভিন্ন এলাকায় বিশৃঙ্খলা বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল বাড়ানো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব বা অপ্রীতিকর পোস্ট ছড়িয়ে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
মন্তব্য