‘রাজনীতিতে আসায় ভুল হয়েছে’, দুর্নীতির অভিযোগ তোলার পরে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক ডেপুটি স্পিকারের আত্মহত্যা

পশ্চিমবঙ্গের রামপুরহাটের সাবেক তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক ও রাজ্য বিধানসভার সাবেক ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহের সঙ্গে একটি এক পাতার সুইসাইড নোটও পাওয়া গেছে। সেখানে তিনি নিজের মৃত্যুর জন্য কাউকে দায়ী না করে রাজনীতিতে আসার জন্য আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন।

রোববার (১৬ আগস্ট) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রামপুরহাটে বাড়ির পাশের একটি দলীয় কার্যালয় থেকে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয় বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়।

সুইসাইড নোটে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক থাকার সময়ও কোনো দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না বলে দাবি করেন তিনি। রাজনৈতিক মতবিরোধ হলেও তা কখনো শত্রুতার পর্যায়ে যায়নি বলেও উল্লেখ করেন।

চিঠিতে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি লেখেন, টিআরডিএতে সাধারণ সভা ছাড়া তার কোনো দায়িত্ব ছিল না। তিনি টেন্ডার কমিটির সদস্য ছিলেন না, তার কাছে কোনো চেক পাওয়ার ক্ষমতাও ছিল না। এমনকি প্ল্যান পাস বা নো অবজেকশন সার্টিফিকেট দেওয়ার বিষয়েও তার কোনো ভূমিকা ছিল না বলে দাবি করেন তিনি।

নিজেকে অপমান বা হেয় করার চেষ্টা করা হয়েছে অভিযোগ করে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, এ ঘটনায় তিনি ক্ষুব্ধ ও হতাশ। একপর্যায়ে তিনি মন্তব্য করেন, ‘রাজনীতিতে আসাটাই ভুল হয়েছে।’

পরিবারের সদস্যদের ভবিষ্যতে রাজনীতিতে না জড়ানোর পরামর্শও দিয়ে গেছেন তিনি। নিজের বংশের ছেলেদের উদ্দেশে তিনি রাজনীতি থেকে দূরে থেকে নিজ নিজ পেশায় থাকার পরামর্শ দেন।

পেশাগত জীবনে শিক্ষকতা করেছেন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। সুইসাইড নোটে শিক্ষকতা জীবনের কথাও স্মরণ করেন তিনি। জানান, সারা জীবন নিয়মিত ক্লাস নিয়েছেন, বিশেষ ক্লাস করেছেন এবং অনেক শিক্ষার্থীকে বিনা পারিশ্রমিকে পড়িয়েছেন। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পাওয়া ভালোবাসার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

চিঠির শেষ দিকে পরিবারের সদস্যদের শান্ত থাকার পরামর্শ দেন আশিস। একই সঙ্গে স্পষ্ট করে লিখে যান, তার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। তবে কারও নাম উল্লেখ করে সরাসরি কোনো অভিযোগ করেননি তিনি।

আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ২০০১ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত টানা রামপুরহাটের বিধায়ক ছিলেন। পাঁচবারের এই বিধায়ক পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রিসভায়ও দায়িত্ব পালন করেন। তিনি রাজ্যের সাবেক স্কুলশিক্ষামন্ত্রী ও কৃষিমন্ত্রী ছিলেন। পরে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

তার মৃত্যুর ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।