খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ই আগস্ট ২০২৬, ৫:২৪ পিএম
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার গোকুলনগর গ্রামে টানা প্রায় তিন মাস ধরে প্রচণ্ড কাদার মধ্যে বাঁধা অবস্থায় থাকা চারটি মহিষকে উদ্ধার করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ হোসেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীগুলোর দুর্দশার ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি তাঁর নজরে আসে। পরে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে মহিষগুলোকে কাদা থেকে সরিয়ে অপেক্ষাকৃত শুকনা জায়গায় নেওয়ার ব্যবস্থা করেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গোকুলনগর গ্রামের মৃত ফজর আলীর ছেলে আবদুল আলিম তাঁর বাড়ির পাশের কাদাযুক্ত স্থানে চারটি মহিষ বেঁধে রেখেছিলেন। বর্ষা মৌসুম শুরুর পর থেকে প্রায় তিন মাস ধরে প্রাণীগুলোকে ওই স্থানেই রাখা হচ্ছিল। আগে মহিষগুলোকে মাঠে নিয়ে চরানো হলেও বর্ষার কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে তাদের চলাফেরার সুযোগও সীমিত হয়ে পড়ে।
বাড়ির চারপাশে কাদা জমে থাকায় মহিষগুলোর জন্য আলাদা শুকনা ও নিরাপদ স্থান তৈরি করা হয়নি। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রাণীগুলোকে কাদা থেকে সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধও করেছিলেন। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি বলে স্থানীয়দের দাবি।
মহিষগুলোর এমন অবস্থার বিষয়টি প্রথমে নজরে আসে স্থানীয় পরিবেশকর্মী নাজমুল হাসানের। তিনি প্রাণীগুলোর দুরবস্থার ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। ছবিগুলো ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি মহেশপুর উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে। পরে রোববার সন্ধ্যার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ হোসেন পরিবেশকর্মী নাজমুল হাসানকে সঙ্গে নিয়ে আবদুল আলিমের বাড়িতে যান।
ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি চারটি মহিষকে কাদার মধ্য থেকে সরিয়ে বাড়ির পাশের তুলনামূলক শুকনা জায়গায় নেওয়ার ব্যবস্থা করেন। একই সঙ্গে মহিষগুলোর জন্য নিরাপদ আশ্রয়, পর্যাপ্ত খাবার এবং চলাফেরার উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতে পরিবারটিকে নির্দেশ দেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, মহিষগুলোর জন্য উপযুক্ত জায়গা তৈরিতে পরিবারটিকে ১৫ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে প্রাণীগুলোর জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করা না হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। তাঁর নির্দেশনায় শুধু প্রাণীগুলোকে কাদা থেকে সরিয়ে নেওয়াই নয়, ভবিষ্যতে তাদের যথাযথভাবে রাখার ব্যবস্থার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বাড়িতে গিয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তারা মহিষগুলোর মালিক আবদুল আলিমকে পাননি। তাঁর মা সত্য খাতুন জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে মহিষগুলো বিক্রি করে দেওয়ার কথাও বলা হয়েছিল। কারণ দীর্ঘদিন ধরে এভাবে রাখায় প্রাণীগুলো কষ্ট পাচ্ছিল। বাড়ির নারীরাও মহিষগুলোর কাছে যেতে ভয় পেতেন বলে তিনি জানান। এ কারণে প্রাণীগুলোকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হয়নি বলেও তাঁর বক্তব্য।
পরিবেশকর্মী নাজমুল হাসান বলেন, মহিষগুলোর দীর্ঘদিনের দুরবস্থা দেখে স্থানীয় অনেক মানুষই কষ্ট পাচ্ছিলেন। কিন্তু পরিস্থিতির পরিবর্তন হচ্ছিল না। পরে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরেন। তাঁর প্রকাশ করা ছবি প্রশাসনের নজরে আসার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
প্রাণীকে দীর্ঘ সময় কাদা, নোংরা পরিবেশ বা চলাচলের অনুপযোগী স্থানে আটকে রাখলে তাদের স্বাভাবিক চলাফেরা ও বিশ্রাম ব্যাহত হতে পারে। বিশেষ করে বর্ষাকালে অতিরিক্ত কাদা ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে গবাদিপশুর জন্য নিরাপদ আশ্রয়, শুকনা মেঝে, পর্যাপ্ত খাবার ও পরিষ্কার পানি নিশ্চিত করা জরুরি। স্থানীয় পর্যায়ে প্রাণীর প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ এবং খামার বা গবাদিপশু পালনের ক্ষেত্রে ন্যূনতম যত্ন নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তাও এ ঘটনা সামনে এনেছে।
প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপে আপাতত চারটি মহিষ কাদার বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়েছে। এখন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের জন্য স্থায়ীভাবে নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা হয় কি না, সেটিই হবে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
মন্তব্য