খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ই আগস্ট ২০২৬, ১১:৫৪ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সাথে চলমান সামরিক ও রাজনৈতিক সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর ভূমিকাকে কেন্দ্র করে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের সাথে বিরোধ নিষ্পত্তির কূটনৈতিক উদ্যোগে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি করা হলে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমানে সরাসরি বোমা হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের বন্ধু ও মিত্র হিসেবে পরিচিত ওমানের ওপর ট্রাম্পের এমন সরাসরি আক্রমণের হুঁশিয়ারি বিশ্বজুড়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত অবসানের চলমান প্রক্রিয়ায় ওমান যদি কোনোভাবে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে, তবে দেশটির ওপর কঠোর সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রায় ছয় মাস ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত নিরসনে নির্ধারিত সময়সীমা কোনো চূড়ান্ত চুক্তি বা সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়ে যাওয়ার পরপরই ট্রাম্পের এই মন্তব্য সামনে এল।
তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প এটিও স্পষ্ট করেছেন যে, চুক্তি সম্পাদনের জন্য তিনি ব্যক্তিগতভাবে কোনো তাড়াহুড়ো করছেন না এবং কোনো নির্দিষ্ট ডেডলাইন বা সময়সীমা বেঁধে দিতেও রাজি নন। সাক্ষাৎকারে তিনি সরাসরি মন্তব্য করেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত থামাতে হলে ইরানকে ‘আত্মসমর্পণের’ প্রতীক হিসেবে সাদা পতাকা দেখাতে হবে। ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, যেকোনো মূল্যে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা এবং তাদের পারমাণবিক শক্তি পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করাই ওয়াশিংটনের মূল লক্ষ্য।
ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, গত জুন মাসে অনুষ্ঠিত জি-সেভেন (G7) শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে একটি বিশেষ আঞ্চলিক সমঝোতা হয়েছিল। সেই সমঝোতার আওতায় ইরানের ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের এক সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় শেষ হয়ে গেলেও দুই পক্ষের মধ্যে কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধান আসেনি।
বর্তমানে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর কৌশলগত নৌপথ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ওমান ও ইরানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা চলছে। ঠিক এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ওমানের ওপর ট্রাম্পের নতুন হুমকি আঞ্চলিক অস্থিরতাকে বহু গুণে বাড়িয়ে দিয়েছে। উল্লেখ্য, ওমান দীর্ঘদিন ধরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যবর্তী প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি মার্কিন মন্ত্রিসভার রুদ্ধদ্বার বৈঠকেও ওমানকে সতর্ক করার খবর প্রকাশ্যে এসেছিল।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই কঠোর ও আগ্রাসী অবস্থান সত্ত্বেও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সার্বিক রাজনৈতিক সংকট নিরসনে ওমানের সাথে তাদের আনুষ্ঠানিক বৈঠক ও কূটনৈতিক আলোচনা বেশ ইতিবাচকভাবেই এগিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে ওয়াশিংটনের হুঙ্কার ও আঞ্চলিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার বৈপরীত্য আবার স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
মন্তব্য