বাংলাদেশে নতুন করে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে দুই দিনের গুরুত্বপূর্ণ সফরে ঢাকায় আসছে ভারতের ১৪টি বড় শিল্পগোষ্ঠীর ১৮ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল। সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে ঢাকা পৌঁছাবে ভারতীয় এই প্রতিনিধিদলটি। ক্ষমতার পটপরিবর্তন ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে দুদেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক সুসম্পর্ক পুনরুদ্ধারে এ সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও কূটনীতিকেরা।
সফরের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার প্রতিনিধিদলটি বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে পৃথক ও যৌথ বৈঠকে বসবে। বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য সহজীকরণ, বিদ্যমান অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণ এবং নতুন যৌথ বিনিয়োগের ক্ষেত্র নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
প্রতিনিধিদলটি তাদের সফরসূচি অনুযায়ী ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এফবিসিসিআই) নেতাদের সাথে একটি মধ্যাহ্নভোজ বৈঠকে অংশ নেবে। এছাড়া দেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে নিয়োজিত সংস্থা বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করবে দলটি। বুধবার সকালে ঢাকা ত্যাগ করার আগে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গেও ভারতীয় ব্যবসায়ী দলটির সৌজন্য সাক্ষাতের জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পর ভারত থেকে বাংলাদেশে আসা এটিই প্রথম উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দুই দেশের সম্পর্ক ও বাণিজ্যিক প্রবাহে কিছুটা শীতলতা তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে সমুদ্র ও স্থলবন্দর ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুন কিছু বিধি-নিষেধের দরুন উভয় দেশের আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকদের বেশ জটিলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
বর্তমানে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারে। তবে এই বাণিজ্য প্রক্রিয়ায় বিশাল বড় ব্যবধান বিদ্যমান। ভারতের মোট ১২ বিলিয়ন ডলারের পণ্যের বিপরীতে বাংলাদেশ ভারতে মাত্র ২ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের পণ্য রপ্তানি করতে সক্ষম হয়। ভারতীয় শিল্পোদ্যোক্তারা এই বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর পাশাপাশি বাংলাদেশে ম্যানুফ্যাকচারিং, স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তি খাতে নতুন বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা করতে আগ্রহী।
ব্যবসায়ীদের এই শক্তিশালী দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রির (সিআইআই) মহাপরিচালক চন্দ্রজিৎ ব্যানার্জি। প্রতিনিধিদলে রয়েছে ভারতের স্বাস্থ্য, মোটরযান, টেক্সটাইল ও প্রক্রিয়াজাত খাতের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। এদের মধ্যে গোদরেজ ইন্ডাস্ট্রিজ, ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান ভারত বায়োটেক, প্রখ্যাত বস্ত্র প্রস্তুতকারক অরবিন্দ লিমিটেড, অটোমোবাইল জায়ান্ট মাহিন্দ্রা গ্রুপ, গোদরেজ কনজ্যুমার প্রোডাক্টস, ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের প্রতিষ্ঠান ফোর্বস মার্শাল এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতের অ্যাপোলো হসপিটালসের শীর্ষ কর্তাব্যক্তিরা সরাসরি অংশ নিচ্ছেন। দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক শীতলতা কাটিয়ে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ফের স্বাভাবিক ধারায় ফেরাতে এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকগুলো ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।



