খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ই আগস্ট ২০২৬, ১২:৩০ এএম
লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা রোকন উদ্দিন বাবুলের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, ব্যাপক অনিয়ম এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের সঙ্গে অসাধু যোগসাজশের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন আদিতমারী উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের একাংশের নেতারা।
সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেল পাঁচটায় আদিতমারী উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে এই জরুরি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যের শিরোনাম ছিল ‘সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন’।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আদিতমারী উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব সালেকুজ্জামান প্রামাণিক। লিখিত বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর থেকেই সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন দলীয় হাইকমান্ড ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের পুরোপুরি উপেক্ষা করে চলছেন। তিনি দলের সঙ্গে কোনো সমন্বয় না করে নিজের মতো করে সাংগঠনিক ও আঞ্চলিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন, যা দলের ঐতিহ্য ও ভাবমূর্তিকে চরম সংকটে ফেলেছে।
লিখিত বক্তব্যের বাইরে সালেকুজ্জামান প্রামাণিক অভিযোগ করে বলেন, এমপি রোকন উদ্দিন নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থকে সর্বাগ্রে প্রাধান্য দিচ্ছেন। একই সাথে তিনি জাতীয় পার্টি, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ, জামায়াতে ইসলামী এবং স্থানীয় বিভিন্ন প্রভাবশালী স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগসাজশ রক্ষা করে চলছেন। তাদের সহায়তায় ইচ্ছামতো উন্নয়ন কাজ পরিচালনা করায় সাধারণ মানুষের কাছে দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় নেতারা আরও জানান, নির্বাচনে জয়লাভের পর রোকন উদ্দিন বাবুল দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়নে কোনো সভা করেননি, এমনকি এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গেও কোনো ধরনের সৌজন্য সাক্ষাৎ করেননি। এর মাঝেই দলের কেন্দ্রীয় ও রংপুর বিভাগীয় নির্দেশনা বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তিনি মঙ্গলবার বিকেলে আদিতমারী জিএস মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে বিএনপির ব্যানার ব্যবহার করে একটি বিধিবহির্ভূত সমাবেশের ডাক দিয়েছেন। অথচ এই সভার ব্যাপারে উপজেলা বিএনপি ও মূল অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতারা কিছুই জানেন না।
সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিবরণ দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত ১৫ আগস্ট বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত দলীয় কর্মসূচি সকাল ১১টায় যথারীতি শেষ হয়। কিন্তু এরপর নেতৃবৃন্দকে না জানিয়ে এবং কোনো আলোচনা ছাড়াই এমপির নির্দেশে দুপুরে আদিতমারী উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ের তালা ভেঙে নতুন করে আরেকটি সভা আয়োজন করা হয়। কার্যালয়ের তালা ভাঙার এই ঘটনায় তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে।
সম্মেলনের শেষ দিকে বলা হয়, সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন নিজের মনগড়া ও স্বার্থান্বেষী এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য আদিতমারী বিএনপিকে দ্বিখণ্ডিত করেছেন। দলে অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো দুর্বল করা এবং নিজস্ব পকেট ভারী করার উদ্দেশ্যে নিজস্ব বলয় তৈরি করছেন তিনি। তার এসব অপকর্মের প্রতিবাদ জানিয়ে এবং দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে অবিলম্বে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান ক্ষুব্ধ নেতারা।
তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন ও মনগড়া বলে দাবি করেছেন সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুল। তিনি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, “আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা এবং মঙ্গলবার বিকেলে আদিতমারীতে আমাদের পূর্বনির্ধারিত নির্বাচন-উত্তর কর্মী মূল্যায়ন সভাটি বানচাল করার উদ্দেশ্যে এই অসত্য সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই। আজ যারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, তাদের অনেকেই নির্বাচনে গোপনে আমার বিরোধিতা করেছিলেন যেন আমি জয়ী হতে না পারি। এখন আমি নির্বাচিত হওয়ার পর তারা ঈর্ষান্বিত হয়ে নানা অজুহাতে চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছেন।”
এদিকে আদিতমারী উপজেলা বিএনপির অভ্যন্তরীণ এই বিরোধ ও সংবাদ সম্মেলনের বিষয়ে জানতে জেলা বিএনপির সভাপতি এবং রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলুর সাথে মুঠোফোন ও মেসেজিং অ্যাপে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য