খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ই আগস্ট ২০২৬, ১২:৪২ এএম
রাজধানীর ব্যস্ততম এলিফ্যান্ট রোডের বাটা সিগন্যাল মোড়ে রাস্তার পাশে পড়ে থাকা একটি পরিত্যক্ত শপিং ব্যাগ থেকে ককটেলসদৃশ বেশ কয়েকটি বস্তু উদ্ধার করেছে নিউমার্কেট থানা পুলিশ। সোমবার (১৭ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে বাটা সিগন্যাল থেকে নিউমার্কেটগামী প্রধান সড়কের পাশ থেকে আতঙ্কজনক এই বস্তুগুলো উদ্ধার করা হয়। ব্যস্ত রাস্তায় বস্তুগুলোর উপস্থিতি দেখে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীদের মধ্যে সাময়িক ভীতি ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, রাত পৌনে ১০টার দিকে বাটা সিগন্যাল সংলগ্ন ওই এলাকায় ফেস মাস্ক পরা চার-পাঁচজন অজ্ঞাত যুবক হঠাৎই নিজেদের মধ্যে হাতাহাতি ও বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে তাদের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে আশেপাশের লোকজন জড়ো হতে থাকেন। ঘটনা দেখে যুবকরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। তারা চলে যাওয়ার পর স্থানীয়রা খেয়াল করেন, সড়কের পাশে একটি শপিং ব্যাগ পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। কৌতুহলী হয়ে ব্যাগের ভেতরে তাকাতেই লাল টেপে মোড়ানো কয়েকটি ককটেলসদৃশ বস্তু দেখতে পান স্থানীয়রা। তারা বিলম্ব না করে তৎক্ষণাৎ জরুরি সেবা নম্বরে ও নিউমার্কেট থানায় খবর দেন।
খবর পাওয়ার সাথে সাথেই নিউমার্কেট থানা পুলিশের একটি টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি এড়াতে পুলিশ সদস্যরা দ্রুত স্থানটি চারদিক থেকে লাল ফিতা দিয়ে ঘিরে ফেলে এবং সাধারণ পথচারী ও যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রিত করে। খবর দেওয়া হয় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে। খবর পেয়ে বিশেষজ্ঞ দলের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে আসেন। তারা বস্তুগুলো উদ্ধার করে প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেন এবং তা নিষ্ক্রিয় করার জন্য প্র প্রয়োজনীয় আইনি ও নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
তবে ঘটনার আকস্মিকতায় মূল সড়কে স্বাভাবিক যান চলাচলেও কিছুটা বিঘ্ন ঘটে। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে বিকল্প উপায়ে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করে। কারা এবং কী উদ্দেশ্যে এই বিস্ফোরকসদৃশ বস্তুগুলো এনেছিল, নাকি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আতঙ্ক ছড়াতে এটি ফেলা রাখা হয়েছিল—সে বিষয়ে পুলিশ এখনই নিশ্চিত কিছু বলতে পারছে না।
এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার আনুষ্ঠানিক বা লিখিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে নিউমার্কেট থানা পুলিশ জানিয়েছে, পুরো বিষয়টি তারা গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে। একই সাথে অপরাধীদের সনাক্ত করতে আশেপাশের ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে। দ্রুতই ঘটনার নেপথ্যে থাকা রহস্য উদঘাটিত হবে বলে মনে করছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
মন্তব্য