ফেনীর ছাগলনাইয়ায় আর্থিক সাহায্য দেওয়ার কথা বলে এক মানসিক ও শারীরিকভাবে অক্ষম প্রতিবন্ধী নারীকে নির্জন স্থানে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের এক ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে। শুধু তা-ই নয়, এই মধ্যযুগীয় বর্বরতার খবর জানাজানি হওয়ার পর তা ধামাচাপা দিতে স্থানীয় কয়েকজন মাতব্বর সালিশ বৈঠক ডেকে অপরাধীদের মাত্র ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করে ঘটনাটি মীমাংসার অপচেষ্টা চালিয়েছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পুলিশ ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার দুপুরে উত্তর ছয়ঘরিয়া গ্রামের স্থানীয় টমটমচালক সাকিব, আরমান ও বাদশা নামে তিন যুবক আর্থিক সহায়তার প্রলোভন দেখিয়ে দুই সন্তানের জননী ওই অসহায় প্রতিবন্ধী নারীকে তাঁর নিজ বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। পরে কৌশলে তাঁকে একটি নিঝুম ও নির্জন স্থানে নিয়ে পরপর তিনজন মিলে ধর্ষণ করেন। পৈশাচিক এ ঘটনার পর মুমূর্ষু অবস্থায় ভুক্তভোগীকে সেখানেই ফেলে রেখে পালিয়ে যান অভিযুক্তরা।
পরবর্তীতে মারাত্মক আহত অবস্থায় ওই নারী স্বজনদের কাছে পুরো ঘটনার বর্ণনা দিলে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি স্থানীয়দের জানান। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে তা ধামাচাপা দিতে তৎপর হয়ে ওঠেন এলাকার কয়েকজন প্রভাবক ও মাতব্বর। স্থানীয় আইনি প্রক্রিয়াকে তোয়াক্কা না করে সোমবার রাতে তাঁরা জোরপূর্বক একটি সামাজিক বিচার বা সালিশি বৈঠকের আয়োজন করেন। উক্ত সালিশে অভিযুক্তদের মাত্র ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করে বিষয়টি সেখানেই চেপে যাওয়ার জন্য ভুক্তভোগীর পরিবারকে চাপ সৃষ্টি করা হয়।
ভুক্তভোগীর স্বামী ক্ষোভ ও কষ্ট প্রকাশ করে জানান, তাঁর স্ত্রী একজন অসহায় প্রতিবন্ধী নারী। অভিযুক্তরা সরলতার সুযোগ নিয়ে এই জঘন্য অপরাধ করেছে। উপরন্তু মাতব্বরদের চাপে তাঁদের নজিরবিহীন ওই বিচারে বসতে বাধ্য হতে হয়েছিল।
বিষয়টি পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে আসলে ছাগলনাইয়া থানা পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ভোরে উপজেলার উত্তর ছয়ঘরিয়া গ্রামে এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আটককৃতরা হলেন—একই গ্রামের মনির আহমদের ছেলে সাকিব (১৮), ইব্রাহিমের ছেলে ইয়াছিন (১৬) এবং আনোয়ার হোসেনের ছেলে আরমান (১৫)।
ঘটনার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোকছেদ আহাম্মদ মুন্না জানান, সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মতো একটি জঘন্য ফৌজদারি অপরাধ নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশি বৈঠক করা আইনত দণ্ডনীয়। তিনি নিজেও এ ঘটনায় জড়িতদের কঠোরতম শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ইতোমধ্যে ভুক্তভোগীর স্বামী বাদী হয়ে ছাগলনাইয়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন। ছাগলনাইয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবু তাহের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সেই সঙ্গে একটি গুরুতর অপরাধকে সালিশের নামে ধামাচাপা দেওয়ার পেছনে যেসব মাতব্বর বা প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত ছিলেন, তাঁদের ভূমিকাও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

