বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের একাদশে মাত্র একটি পরিবর্তন এনেছে অস্ট্রেলিয়া। প্রথম টেস্টে না থাকা ম্যাট রেনশ দলে ফিরেছেন। তাঁর জায়গা হয়েছে জেক ওয়েদারাল্ডের পরিবর্তে। অন্যদিকে, চার পেসার নাকি তিন পেসার ও এক স্পিনার—এই সমীকরণ নিয়ে আলোচনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিন পেসার নিয়েই মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।
প্রথম টেস্টের আগে অস্ট্রেলিয়ার একাদশের ভারসাম্য নিয়ে বেশ আলোচনা ছিল। বিশেষ করে ডারউইনের কন্ডিশন বিবেচনায় চার পেসার খেলানোর সম্ভাবনাও ছিল। অধিনায়ক প্যাট কামিন্সও ম্যাচের আগের সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত করেননি। তিনি জানিয়েছিলেন, কন্ডিশন ও উইকেটের আচরণ বুঝে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
শেষ পর্যন্ত অবশ্য তিন পেসার ও এক স্পিনার সমন্বয়েই একাদশ সাজিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ফলে সর্বশেষ অ্যাশেজে ২০ উইকেট নিয়ে আলোচনায় থাকা স্কট বোল্যান্ডকে আবারও একাদশের বাইরে থাকতে হচ্ছে। বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে নাথান লায়ন দুই ইনিংস মিলিয়ে মাত্র একটি উইকেট নেওয়ায় বোল্যান্ডকে খেলানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া সেই পথে হাঁটেনি।
বোল্যান্ডকে বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত যে সহজ ছিল না, কামিন্সের বক্তব্যেই তার ইঙ্গিত মিলেছে। অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক বলেছেন, বোল্যান্ড অসাধারণ মানের বোলার এবং তাঁর মতো একজনকে বেঞ্চে রাখা কঠিন। চার পেসার নিয়ে আলোচনার অন্যতম কারণও এই পেসারের মান বলে জানিয়েছেন তিনি।
দ্বিতীয় টেস্টে ম্যাট রেনশর ফেরাটাও গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারির পর প্রথমবার অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দলে ফিরছেন তিনি। ভারতের বিপক্ষে সেই টেস্টে রেনশ খেলেছিলেন মিডল অর্ডারে। এবার তাঁর দায়িত্ব হবে ওপেনিংয়ে। অর্থাৎ দীর্ঘ বিরতির পর টেস্ট ক্রিকেটে ফিরেই ব্যাটিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গায় দায়িত্ব পালন করতে হবে তাঁকে।
রেনশর প্রত্যাবর্তনের ফলে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ে নতুন করে ভারসাম্য আনার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে। প্রথম টেস্টের পারফরম্যান্সের পরও বড় কোনো পরিবর্তনের পথে যায়নি দলটি। বরং একাদশের মূল কাঠামো ধরে রেখে শুধু একটি জায়গায় পরিবর্তন করেছে তারা।
দলে জায়গা ধরে রেখেছেন মারনাস লাবুশেনও। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর ব্যাটিং নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক তাঁর ওপর আস্থা রাখছেন। সর্বশেষ ২১ টেস্টে লাবুশেন কোনো শতক পাননি। তবু কামিন্সের মতে, বড় রান করার সামর্থ্য তাঁর রয়েছে এবং সাম্প্রতিক অনুশীলনে তাঁকে ভালো ছন্দে দেখা গেছে।
কামিন্সের ভাষায়, লাবুশেন একসময় বিশ্বের এক নম্বর টেস্ট ব্যাটসম্যান ছিলেন এবং তাঁর ঝুলিতে রয়েছে বিপুলসংখ্যক টেস্ট রান। তাই বড় ইনিংস খেলার সক্ষমতা নিয়ে অস্ট্রেলিয়া এখনো সন্দিহান নয়। অধিনায়কের বিশ্বাস, দীর্ঘ সময় পর লাবুশেনকে অনুশীলনে বেশ ভালো অবস্থায় দেখা যাচ্ছে।
বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্ট তাই অস্ট্রেলিয়ার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম ম্যাচের ফল ও কন্ডিশনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তারা এবার দলগত ভারসাম্য ধরে রাখার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে, রেনশর প্রত্যাবর্তন এবং লাবুশেনের ওপর আস্থা—দুই বিষয়ই অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।


