রাজধানীর খিলগাঁওয়ে অবস্থিত ‘রয়েল এইড হাসপাতালে’ রাতে এক আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২২ আগস্ট) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে ভবনটির নিচতলায় হঠাৎ আগুন দেখতে পেয়ে জরুরি সেবায় খবর দেওয়া হয়। তবে ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত পদক্ষেপ এবং দু’টি ইউনিটের তাৎক্ষণিক প্রচেষ্টায় অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত ঠিক ১১টার দিকে খিলগাঁওয়ের রয়েল এইড হাসপাতালের নিচতলায় অবস্থিত জেনারেটর রুমে আগুন লাগার জরুরি বার্তা আসে। খবর পাওয়ার সাথে সাথেই খিলগাঁও ফায়ার স্টেশন থেকে দুটি উদ্ধারকারী ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। প্রাথমিক তৎপরতায় আগুনের ভয়াবহতা বড় রূপ নেওয়ার আগেই প্রায় ২০ মিনিটের প্রচেষ্টায় রাত ১১টা ২২ মিনিটে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই হাসপাতাল ভবনের ভেতরে থাকা রোগী, তাঁদের স্বজন এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। নিচতলায় জেনারেটর কক্ষ থেকে ধোঁয়া উঠে দ্রুত ছড়াতে শুরু করায় অনেকেই ছোটাছুটি শুরু করেন। তবে অশুভ পরিণতি এড়াতে হাসপাতালের জরুরি নিরাপত্তাকর্মী এবং দায়িত্বরত কর্মীরা ভর্তি থাকা রোগীদের সুরক্ষায় দ্রত এগিয়ে আসেন। অনেককে দ্রুত সুরক্ষিত স্থানে এবং ভবনের নিরাপদে থাকা অংশে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়। ফলে শেষ পর্যন্ত কোনো ধরনের হতাহত বা জীবনহানির খবর পাওয়া যায়নি।
আগুনের লেলিহান শিখা মূল হাসপাতাল ভবনের ওপরের তলাগুলোতে ছড়াতে না পেরে কেবল নিচতলার জেনারেটর রুম ও এর সংলগ্ন কিছু এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকায় এক বড় রকমের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় জেনারেটরের যন্ত্রাংশ বা বৈদ্যুতিক উপকরণের আনুমানিক ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগুন লাগার কারণ শনাক্তে কাজ করা হচ্ছে। জেনারেটরের যান্ত্রিক ত্রুটি বা শর্ট সার্কিট থেকে এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষেই ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট হিসাব এবং অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ জানানো সম্ভব হবে। পাশাপাশি রাজধানীর অন্যান্য বেসরকারি হাসপাতালের মতো এই চিকিৎসাকেন্দ্রে পর্যাপ্ত অগ্নি-নির্বাপক ব্যবস্থা ও জরুরি মহড়ার প্রস্তুতি ছিল কি না, নাকি নিরাপত্তা ব্যবস্থার কোনো ঘাটতি ছিল—তাও সার্বিকভাবে তদন্ত করে দেখবে ফায়ার সার্ভিস প্রশাসন।


