অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দুই টেস্টের সিরিজটি ১-১ সমতায় শেষ করেছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় টেস্টে বড় ব্যবধানে হারলেও সিরিজজুড়ে পাওয়া ঐতিহাসিক সাফল্যের পুরস্কার পেয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। আইসিসির সর্বশেষ টেস্ট দলীয় র্যাংকিংয়ে তিন ধাপ এগিয়ে ষষ্ঠ স্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ—যা টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে দেশের সর্বোচ্চ অবস্থান।
রোববার, ২৩ আগস্ট ম্যাকাইয়ে দ্বিতীয় টেস্ট শেষ হওয়ার পর র্যাংকিং হালনাগাদ করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল। সেখানে বাংলাদেশের রেটিং দাঁড়িয়েছে ৭৮। এর আগে টেস্ট র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ অবস্থান ছিল সপ্তম, যা চলতি বছরের মে মাসে পাকিস্তানকে দুই ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে হারানোর পর অর্জন করেছিল দলটি।
অস্ট্রেলিয়া সফরের ফলই মূলত বাংলাদেশের এই উত্থানের ভিত্তি তৈরি করেছে। ডারউইনে প্রথম টেস্টে বিশ্ব টেস্ট র্যাংকিংয়ের শীর্ষ দল অস্ট্রেলিয়াকে নয় উইকেটে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছিল বাংলাদেশ। সেটিই ছিল অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়। ম্যাচটিতে বাংলাদেশের পেসাররা শুরু থেকেই অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ে চাপ তৈরি করেন। হাসান মাহমুদ প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নিয়ে বড় ভূমিকা রাখেন।
ডারউইনের সেই জয়ের পর বাংলাদেশের সামনে ছিল সিরিজ জয়ের সুযোগ। কিন্তু ম্যাকাইয়ে চিত্র পুরোপুরি বদলে যায়। দ্বিতীয় টেস্টে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ মাত্র ৬৪ রানে অলআউট হয়। অস্ট্রেলিয়া ২১০ রান করার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও বাংলাদেশের ব্যাটিং ব্যর্থ হয়; দলটি ৯৫ রানে গুটিয়ে গেলে অস্ট্রেলিয়া ইনিংস ও ৫১ রানে জয় পায়। ফলে দুই ম্যাচের সিরিজ শেষ হয় ১-১ সমতায়।
ম্যাকাই টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার জয়ের নায়ক ছিলেন মিচেল স্টার্ক। প্রথম ইনিংসে মাত্র ১২ রান দিয়ে ছয় উইকেট নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও গুরুত্বপূর্ণ চারটি উইকেট তুলে নেন তিনি। ম্যাচে তাঁর মোট শিকার ১০ উইকেট। অন্যদিকে বাংলাদেশের হয়ে শোরিফুল ইসলাম দুই ইনিংস মিলিয়ে সাত উইকেট নিয়ে নজর কাড়েন।
তবে দ্বিতীয় টেস্টের বড় পরাজয় বাংলাদেশের র্যাংকিংয়ের অগ্রযাত্রাকে থামাতে পারেনি। ৭৮ রেটিং নিয়ে ষষ্ঠ স্থানে উঠে বাংলাদেশ পেছনে ফেলেছে শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। শ্রীলঙ্কার রেটিং ৭৬, পাকিস্তানের ৭৫ এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৭৪।
টেস্ট র্যাংকিংয়ের শীর্ষে অবশ্য অস্ট্রেলিয়াই রয়েছে। তাদের পর আছে দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড, ভারত ও ইংল্যান্ড। অর্থাৎ প্রথম পাঁচ দলের পরই এখন বাংলাদেশের অবস্থান।
বাংলাদেশের এই সাফল্যের গুরুত্ব আরও বেশি, কারণ কয়েক মাসের ব্যবধানেই দলটি টেস্ট র্যাংকিংয়ে সপ্তম থেকে ষষ্ঠ স্থানে উঠে এসেছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে সিরিজ জয় এবং অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়—দুটি ফলই লাল বলের ক্রিকেটে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক উন্নতির ধারাকে স্পষ্ট করেছে।
ম্যাকাইয়ের ব্যর্থতা তাই পুরো সফরের সাফল্যকে ম্লান করতে পারেনি। বরং কঠিন কন্ডিশনে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো তাদের মাটিতে টেস্ট জেতা এবং একই সঙ্গে নিজেদের সর্বোচ্চ র্যাংকিংয়ে ওঠা—বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে নতুন এক মাইলফলক হয়ে থাকল।


