শ্রীলঙ্কার মাটিতে নিজেদের চেনা আধিপত্য বজায় রেখে কলম্বো টেস্টের প্রথম দিনেই চালকের আসনে বসেছে ভারত। গলের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে সফরকারীরা সংগ্রহ করেছে ৫ উইকেটে ৩০০ রান। প্রথম দিনের এই বিশাল সংগ্রহের মূল কারিগর তরুণ বাঁহাতি ব্যাটার দেবদূত পাড্ডিক্যাল। তার সাবলীল ও নান্দনিক শতকের সাথে অধিনায়ক শুভমান গিলের দায়িত্বশীল অর্ধশতক দলকে একটি শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
ম্যাচের শুরুতে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ভারতীয় অধিনায়ক শুভমান গিল। কলম্বোর উইকেটে ব্যাটিংয়ের সুযোগ কাজে লাগাতে শুরু থেকেই ইতিবাচক ক্রিকেট খেলার চেষ্টা করেন দুই উদ্বোধনী ব্যাটার লোকেশ রাহুল ও জশস্বী জয়সওয়াল। প্রথম উইকেটে এই জুটি দলের খাতায় ৩৭ রান যোগ করে। তবে ৩৩ বলে ১৮ রান করা রাহুলকে ফিরিয়ে শ্রীলঙ্কাকে প্রথম সাফল্য এনে দেন লঙ্কান বোলাররা। অন্যপ্রান্তে জশস্বী জয়সওয়াল কিছুটা আগ্রাসী মেজাজে ব্যাট চালিয়ে ৫৩ বলে ৪৫ রান করেন। ফিফটি মিস করলেও আউট হওয়ার আগে নিজের কাজটা ঠিকই করে যান এই তরুণ ওপেনার।
দলীয় রান যখন দুই উইকেটে ৬৭, তখন ইনিংস পুনর্গঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন শুভমান গিল ও দেবদূত পাড্ডিক্যাল। লঙ্কান বোলিং আক্রমণকে হটিয়ে এই দুজন তৃতীয় উইকেটে ১২০ রানের এক কার্যকর ও মূল্যবান জুটি গড়ে তোলেন। ধৈর্য ও কৌশলের মিশ্রণে ব্যাটিং করে অধিনায়ক গিল তুলে নেন ব্যক্তিগত ফিফটি। কিন্তু হাফসেঞ্চুরি ছোঁয়ার পরেই মনোযোগ বিঘ্নিত হয় গিলের। ঠিক ৫০ রানের মাথায় আসিথা ফার্নান্দোর বলে উইকেটরক্ষক নিরোশান ডিকভেলার গ্লাভস বন্দি হয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি।
গিলের বিদায়ের পর উইকেটে আসেন আক্রমণাত্মক ব্যাটার ঋষভ পন্ত। তবে ভাগ্য তার সহায় ছিল না। ব্যক্তিগত ৩ রানে থাকা অবস্থায় শারীরিক অসুস্থতা বা চোটের কারণে ‘রিটায়ার্ড হার্ট’ হয়ে তাকে ক্ষণিকের জন্য ড্রেসিংরুমে ফিরে যেতে হয়।
সতীর্থদের এই আসা-যাওয়ার মাঝেও উইকেটের এক প্রান্ত আগলে রাখেন দেবদূত পাড্ডিক্যাল। গল টেস্টের ফর্ম কলম্বোতেও ধরে রেখে তিনি তুলে নেন ক্যারিয়ারের আরেকটি স্মরণীয় শতক। লঙ্কান বোলারদের আলগা বলগুলোকে সীমানা পার করে ইনিংসটিকে বড় রূপ দেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ১৯৩টি বল মোকাবিলা করে ১২টি দৃষ্টিনন্দন চারের সাহায্যে ১১৭ রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন এই ওপেনার। পাড্ডিক্যালের বিদায়ের পর ইনিংসের গতি বাড়াতে নামেন অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার রবীন্দ্র জাদেজা। আক্রমণাত্মক মেজাজে ৮৩ বলে ৪৩ রানের একটি দরকারি ইনিংস খেলে দলের স্কোর ৩০০-র কাছাকাছি নিয়ে যান তিনি।
দিনের শেষবেলায় আর কোনো বিপদ ঘটতে দেননি দুই তরুণ অপরাজিত ব্যাটার ধ্রুব জুরেল ও সারাংশ জেইন। ধ্রুব জুরেল ৭ রানে এবং সারাংশ জেইন ৪ রানে অপরাজিত থেকে দিনের খেলা শেষ করেন। প্রথম দিন শেষে হাতে ৫টি উইকেট রেখে ৩০০ রান তোলায় দ্বিতীয় দিন লঙ্কান বোলারদের ওপর আরও বড় চাপ তৈরির সুযোগ পাবে সফরকারীরা।
শ্রীলঙ্কার বোলিং বিভাগে প্রথম দিনে সবচেয়ে প্রভাব বিস্তার করেছেন পেসার আসিথা ফার্নান্দো। ১৫ ওভার বোলিং করে ৪৬ রান দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৩টি উইকেট তুলে নেন তিনি। এছাড়া একটি করে উইকেট শিকার করেছেন লাহিরু কুমারা ও কেশারা নুয়ান্থা। সব মিলিয়ে প্রথম দিনের খেলা শেষে ভারতের ঝুলিতেই ঝুঁকে রয়েছে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ।


