শিক্ষিকার ধর্ষণ মামলায় ইউপি চেয়ারম্যানসহ দুইজন আসামি

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, বিয়ের আশ্বাসে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করেছেন এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। মামলায় চেয়ারম্যানের সহযোগী ছালেহীন আকন্দকেও আসামি করা হয়েছে।

বুধবার, ২৬ আগস্ট সন্ধ্যায় সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম হাবিবুর রহমান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে ধর্ষণ, প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। পাশাপাশি অভিযোগকারী শিক্ষিকার ডাক্তারি পরীক্ষার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি হওয়ার সুবাদে ওই শিক্ষিকার সঙ্গে চেয়ারম্যান রবিউল ইসলামের পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অভিযোগকারীর দাবি, এই সম্পর্কের একপর্যায়ে চেয়ারম্যান তাকে বিয়ের আশ্বাস দেন এবং সেই আশ্বাসের ভিত্তিতে একাধিকবার তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। পরে বিয়ের বিষয়ে কথা বললে চেয়ারম্যান নানা কৌশলে বিষয়টি এড়িয়ে যেতে থাকেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

শিক্ষিকার অভিযোগ, ঘটনাটি শুধু বিয়ের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। চেয়ারম্যানের সহযোগী ছালেহীন আকন্দ গোপনে তার ছবি ধারণ করেন এবং পরে ছবি বিকৃত করে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাকে চাপের মধ্যে রাখার চেষ্টা করেন। এভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে ব্ল্যাকমেইল করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, ৩০০ টাকার একটি ফাঁকা স্ট্যাম্পে ওই শিক্ষিকার স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পাশাপাশি বিয়ের আয়োজন ও অন্যান্য খরচের কথা বলে ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে তার কাছ থেকে তিন লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

ভুক্তভোগী শিক্ষিকার ভাষ্য অনুযায়ী, চেয়ারম্যানের দেওয়া বিয়ের আশ্বাসের ওপর বিশ্বাস করে তিনি তার আগের সংসার ভেঙে দেন। ওই সংসারে তার দুটি সন্তান রয়েছে। পরবর্তীতে চেয়ারম্যান বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায় এবং বিভিন্নভাবে হয়রানি ও আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন মনে করে তিনি আইনের আশ্রয় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

অভিযোগকারী জানান, প্রথমে তিনি থানায় অভিযোগ করার চেষ্টা করেন। তবে সেখানে মামলা গ্রহণ না করায় গত ১৬ আগস্ট আদালতের দ্বারস্থ হন। শুনানি শেষে আদালত সংশ্লিষ্ট থানাকে অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। এরপর থানায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়।

মামলার অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম সংবাদ সম্মেলন করে তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ঘটনাটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করেছেন। ফলে অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্যের মধ্যে বিষয়টি এখন আইনি তদন্তের পর্যায়ে রয়েছে।

আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হওয়া মানেই তার অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং অন্যান্য প্রমাণ যাচাই করার পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে অভিযোগকারীর বক্তব্য, চিকিৎসা পরীক্ষার প্রতিবেদন, আর্থিক লেনদেনের নথি, কথোপকথন বা অন্যান্য সম্ভাব্য প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে অভিযোগকারী শিক্ষিকার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরীক্ষা সম্পন্ন করার প্রক্রিয়াও চলছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।