টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মগড়া ইউনিয়নের ভায়েটা হাফিজিয়া মাদরাসার এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় রিয়াজুল ইসলাম নামের ওই শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার (৩০ আগস্ট) মাদরাসার এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে রিয়াজুল ইসলামকে স্থানীয়রা আটক করেন। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ কয়েকজন তাকে মারধরের চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে অভিযুক্ত শিক্ষক স্থানীয় একটি মসজিদে আশ্রয় নেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এর কয়েক দিন আগেও একই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আরেক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছিল। ওই অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার জন্য সালিশি বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে সেই প্রক্রিয়ার মধ্যেই নতুন করে একই ধরনের অভিযোগ সামনে আসায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
ঘটনার পর মাদরাসা ও আশপাশের এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়। শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যেও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, অভিযোগের বিষয়টি যেন কোনোভাবেই চাপা না পড়ে এবং আইন অনুযায়ী নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করে আনা হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশের পাশাপাশি রিজার্ভ পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দও সেখানে উপস্থিত হন। তাদের হস্তক্ষেপে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে অভিযুক্ত শিক্ষককে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা করা হয়েছে। আটক রিয়াজুল ইসলামকে ইতোমধ্যে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার পর অভিযোগগুলোর বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, শিশুদের সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের আচরণ ও দায়িত্ব পালনের বিষয়টি যথাযথভাবে তদারক করা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শিশুদের নিরাপত্তা, মানসিক সুস্থতা ও গোপনীয়তা রক্ষাকেও গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে অভিযোগ উঠেছে বলেই অভিযুক্ত ব্যক্তি অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচিত হন না। তদন্ত ও আদালতের বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, তদন্তে কোনো ধরনের প্রভাব বা চাপ যেন কাজ না করে এবং প্রমাণের ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
অভিযোগের বিষয়ে রিয়াজুল ইসলামের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে এবং আটক আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম তদন্তের ভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়া হবে।



