যশোরে তরুণীকে গণধর্ষণের অভিযোগ, যুবদল নেতা অভিযুক্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

যশোর সদর উপজেলার কুয়াদা বাজারে এক তরুণীকে পানীয়ের সঙ্গে চেতনানাশক দ্রব্য মিশিয়ে খাওয়ানোর পর গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় রামনগর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ডালিম হোসেনসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনা প্রকাশ ঠেকাতে ভুক্তভোগীকে হাসপাতাল থেকে গোপনে সরিয়ে নেওয়া এবং তাঁর পরিবারকে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগী ২১ বছর বয়সী ওই তরুণী মনিরামপুর উপজেলার টুনিয়াঘরা গ্রামের বাসিন্দা এবং হাফিজুর রহমানের মেয়ে। রামনগর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ডালিম হোসেনের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ডালিমের বয়স ৩৫ বছর।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৫ আগস্ট সন্ধ্যায় ডালিম ওই তরুণীকে যশোর সদর উপজেলার কুয়াদা বাজারের একটি রেস্তোরাঁয় ডেকে নেন। সেখানে তাঁকে একটি তরল পানীয় পান করতে দেওয়া হয়। পানীয়টি খাওয়ার কিছুক্ষণ পরই তিনি অচেতন হয়ে পড়েন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

পরে রাত আনুমানিক ১১টার দিকে জ্ঞান ফেরার পর তরুণী নিজেকে বিবস্ত্র অবস্থায় দেখতে পান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তখন তিনি বুঝতে পারেন, তাঁর সঙ্গে গণধর্ষণ ও যৌন নিপীড়ন করা হয়েছে। এ সময় অভিযুক্তরা বিষয়টি কাউকে জানালে তাঁর আপত্তিকর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে ডালিম হোসেনের পাশাপাশি জয় (২৪), মেহদী (৩০), রবিউল (৩৫) ও গোলাম (২৭) নামের আরও চারজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তবে অভিযোগে ওঠা এসব বক্তব্যের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া বাকি।

ঘটনার পর শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ২৮ আগস্ট তরুণীকে যশোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বলে জানা গেছে। তাঁর অবস্থা গুরুতর ছিল বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পরদিন ২৯ আগস্ট ভোরে গণমাধ্যমে ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার আশঙ্কায় তাঁকে হাসপাতাল থেকে নিয়মমাফিক ছাড়পত্র না নিয়েই সরিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে খুলনার একটি বাসায় তাঁকে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, প্রধান অভিযুক্ত রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় ঘটনার পরও পুলিশ কার্যকর পদক্ষেপ নিতে গড়িমসি করছে। এ কারণে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাঁরা প্রকাশ্যে কথা বলতেও ভয় পাচ্ছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এদিকে অভিযোগে উল্লেখ করা তরুণীর মুঠোফোন নম্বর বর্তমানে বন্ধ রয়েছে বলেও জানা গেছে।

ঘটনার বিষয়ে ভুক্তভোগীর বাবা হাফিজুর রহমানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার তাঁর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। একইভাবে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে তাঁদের কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাঁদের দাবি, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা দ্রুত সামনে আনতে হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং ভুক্তভোগী ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

নারীর বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতার অভিযোগের ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা, নিরাপদ পরিবেশ, প্রয়োজনীয় আইনগত সহায়তা এবং নিরপেক্ষ তদন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে অভিযুক্তদের অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে গণ্য না করে তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করাও জরুরি। এই ঘটনায়ও অভিযোগের প্রতিটি দিক যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

Tags :

মোঃ সাকিব হোসেন | উপ-সম্পাদক | খবরওয়ালা বাংলা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।