রাজধানীর মোহাম্মদপুরে একটি ভাড়া ফ্ল্যাটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নেওয়াজ চৌধুরী মিতু নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৩টার দিকে চন্দ্রিমা মডেল টাউনের ব্লক-ই, রোড-১১-এর ১৫ নম্বর বাড়ির সাততলা ভবনের সপ্তম তলায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
অগ্নিকাণ্ডের সময় মিতু ওই ফ্ল্যাটে একাই ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। পরে ফ্ল্যাটের বাথরুম থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আগুনের খবর পেয়ে সংশ্লিষ্টরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর মরদেহটি উদ্ধার করেন।
নিহত মিতুর বাড়ি কুষ্টিয়ার মজমপুর এলাকায় বলে জানা গেছে। তবে ঢাকায় তিনি ওই বাসায় ভাড়া থাকতেন। আগুন লাগার সময় ভবনের অন্য বাসিন্দারা কী অবস্থায় ছিলেন এবং তাদের কেউ আহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অগ্নিকাণ্ডের পর ফ্ল্যাটে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মিতুর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। বিশেষ করে রাতের শেষভাগে আগুন লাগায় ঘুমন্ত অবস্থায় তিনি দ্রুত নিরাপদ স্থানে বের হতে পারেননি কি না, সেটিও তদন্তের অংশ হতে পারে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করতে হবে।
এদিকে আগুনের সূত্রপাত কোথা থেকে এবং কীভাবে হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বৈদ্যুতিক ত্রুটি, রান্নাঘর বা অন্য কোনো উৎস থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল কি না, তদন্তে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডের পর ভবনের নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট ফ্ল্যাটের বৈদ্যুতিক ও অন্যান্য সরঞ্জামও পরীক্ষা করা হতে পারে।
মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেজবাহ্ উদ্দিন জানিয়েছেন, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে। একই সঙ্গে অগ্নিকাণ্ডের কারণ এবং নারীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।
পুলিশের তদন্তে আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ, মিতুর মৃত্যুর পরিস্থিতি এবং ঘটনাটির সঙ্গে কোনো অবহেলা বা অন্য কোনো বিষয় জড়িত ছিল কি না—এসব দিক খতিয়ে দেখা হবে। মরদেহ উদ্ধারের পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়াও অনুসরণ করা হচ্ছে।
রাজধানীর বহুতল ভবন ও ভাড়া বাসায় অগ্নিকাণ্ডের ক্ষেত্রে দ্রুত বের হওয়ার পথ, জরুরি সিঁড়ি এবং পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ধোঁয়া দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে আগুনের তুলনায় শ্বাসকষ্ট ও বিষাক্ত ধোঁয়ার ঝুঁকি অনেক সময় বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। মোহাম্মদপুরের এই ঘটনাতেও ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মৃত্যুর প্রাথমিক ধারণা করা হলেও, তদন্ত ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষার আগে সেটিকে চূড়ান্ত কারণ হিসেবে দেখছে না কর্তৃপক্ষ।
ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ এবং মিতুর মৃত্যুর বিষয়ে তদন্ত শেষে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যেতে পারে।



