ব্রিটিশ গায়ক, গীতিকার ও গিটারবাদক জেমস বের জন্মদিন আজ। ১৯৯০ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ইংল্যান্ডের হিচিনে জন্ম নেওয়া এই সংগীতশিল্পী ৩৬ বছরে পা দিয়েছেন। আবেগঘন কণ্ঠ, গিটারের স্বতন্ত্র ব্যবহার এবং ব্যক্তিগত অনুভূতিনির্ভর গানের জন্য গত এক দশকের বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক সংগীতাঙ্গনে নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করেছেন তিনি।
শৈশব থেকেই সংগীতের প্রতি জেমস বের আগ্রহ ছিল। মাত্র ১১ বছর বয়সে এরিক ক্ল্যাপটনের ‘লায়লা’ গানটি শোনার পর গিটারের প্রতি তাঁর গভীর আকর্ষণ তৈরি হয়। এরপর নিজ উদ্যোগেই গিটার শেখা শুরু করেন তিনি। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সংগীতচর্চাও আরও বিস্তৃত হয়। পরবর্তী সময়ে ব্রাইটনে গিয়ে শাস্ত্রীয় গিটার নিয়ে পড়াশোনা করেন। পাশাপাশি ছোট ছোট অনুষ্ঠান ও স্থানীয় পরিবেশনায় গান গেয়ে নিজের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বাড়াতে থাকেন।
সংগীতজীবনের শুরুর দিকে ধীরে ধীরে নিজের পরিচিতি তৈরি করলেও ২০১৪ সালে প্রকাশিত ‘লেট ইট গো’ গানটি তাঁর ক্যারিয়ারে বড় পরিবর্তন আনে। গানটির সহজ সুর, আবেগময় পরিবেশনা এবং সম্পর্ক ও অনুভূতিকে ঘিরে লেখা কথা শ্রোতাদের কাছে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। একসময় গানটি আন্তর্জাতিক শ্রোতাদের কাছেও তাঁকে পরিচিত করে তোলে।
এরপর ‘হোল্ড ব্যাক দ্য রিভার’ গানটির মাধ্যমে জেমস বের জনপ্রিয়তা আরও দৃঢ় হয়। গানটি যুক্তরাজ্যের সংগীত তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে পৌঁছায়। একই গানের সুবাদে তিনি গ্র্যামি পুরস্কারের মনোনয়নও পান। ফলে উদীয়মান একজন শিল্পী থেকে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত গায়ক হিসেবে তাঁর অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়।
২০১৫ সালে প্রকাশিত হয় জেমস বের প্রথম পূর্ণাঙ্গ অ্যালবাম ‘কেওস অ্যান্ড দ্য কাম’। অ্যালবামটি যুক্তরাজ্যের অ্যালবাম তালিকায় শীর্ষস্থান অর্জন করে। একই সময়ে ব্রিটিশ সংগীতাঙ্গনে সমালোচকদের দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কারও তাঁর ঝুলিতে আসে। ওই সময় গ্র্যামি পুরস্কারের তিনটি বিভাগে মনোনয়ন পাওয়াও তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম উল্লেখযোগ্য অর্জন হয়ে ওঠে।
জেমস বের গানের বড় বৈশিষ্ট্য হলো ব্যক্তিগত অনুভূতি ও জীবনের অভিজ্ঞতাকে সরল ভাষায় সংগীতে রূপ দেওয়া। তাঁর পরিবেশনায় গিটারের ব্যবহার কখনো নরম ও মৃদু, আবার কখনো শক্তিশালী আবেগ তৈরি করে। ‘লেট ইট গো’, ‘হোল্ড ব্যাক দ্য রিভার’, ‘আস’, ‘বেস্ট ফেক স্মাইল’ এবং ‘ইফ ইউ এভার ওয়ান্ট টু বি ইন লাভ’ তাঁর উল্লেখযোগ্য গানগুলোর মধ্যে রয়েছে।
তাঁর সংগীতের জনপ্রিয়তার পেছনে কণ্ঠের আবেগ এবং গানের কথার সঙ্গে শ্রোতাদের সহজে সংযোগ স্থাপনের ক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। প্রচলিত তারকাসুলভ চাকচিক্যের বদলে নিজের গান ও পরিবেশনার ওপর জোর দিয়েই তিনি আন্তর্জাতিক শ্রোতাদের কাছে জায়গা করে নিয়েছেন।
৩৬ বছরে পা রাখার এই দিনে জেমস বের সংগীতজীবনের এক দশকের বেশি সময়ের পথচলা তাঁর সাফল্যেরই সাক্ষ্য দেয়। গায়ক, গীতিকার ও গিটারবাদক হিসেবে নিজের স্বতন্ত্র ধারা ধরে রেখে তিনি এখনও বিশ্বজুড়ে শ্রোতাদের কাছে পরিচিত একটি নাম। জন্মদিনে তাঁর জন্য রইল শুভকামনা।


