কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন স্বপনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার বিকেলে কুমিল্লা নগরীর ধর্মসাগরের পশ্চিম পাড় এলাকায় অবস্থিত তাঁর নিজ বাসভবন ‘এস এইচ ম্যানশন’ থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত সাজ্জাদ হোসেন স্বপন ২০০৯ সালে বুড়িচং উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। স্থানীয় রাজনীতিতে তিনি সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এবং সাবেক রেলপথ মন্ত্রী মোস্তফা কামাল ও মুজিবুল হকের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে পরিচিত। সাজ্জাদ হোসেন বুড়িচং উপজেলার বাকশীমুল গ্রামের মৃত আয়েত আলীর ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সাজ্জাদ হোসেন বেশ কিছুদিন আইনশৃঙ্খলার রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে আত্মগোপনে ছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তিনি আবার এলাকায় প্রকাশ্যে যাতায়াত শুরু করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে তিনি রাজনৈতিক দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা ও তাঁদের সংগঠিত করার তৎপরতা চালিয়ে আসছিলেন।
প্রায় এক সপ্তাহ ধরে তিনি কুমিল্লা নগরীর নিজ বাসভবনে অবস্থান করছিলেন। গ্রেপ্তার হওয়ার মাত্র পাঁচ দিন আগে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক আইডি থেকে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে একটি দলীয় ছবি পোস্ট করেন, যা জেলাজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, নগরীর বাসায় অবস্থান করেই সাজ্জাদ হোসেন আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের পুনরায় সংগঠিত করার চেষ্টা করছিলেন। এমনকি সাম্প্রতিক সময়ে কুমিল্লা জেলায় আওয়ামী লীগের কয়েকটি ঝটিকা মিছিল ও রাজনৈতিক কর্মসূচি আয়োজনের পেছনেও তিনি নেপথ্য ভূমিকা পালন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার জানান, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংগঠিত সহিংস ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা একটি হত্যা ও হামলা মামলার এজাহারনামীয় আসামি সাজ্জাদ হোসেন স্বপন। ওই মামলাতেই তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
শুক্রবার বিকেলে নিজ বাসভবন থেকে গ্রেপ্তারের পর সাজ্জাদ হোসেনকে কড়া নিরাপত্তায় কোতোয়ালি থানায় নিয়ে আসা হয়। রাতে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের পর শনিবার সকালে তাঁকে কুমিল্লার জ্যেষ্ঠ বিচারক হাকিম আদালতে সোপর্দ করা হয়। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এরপর প্রিজন ভ্যানে করে সাজ্জাদ হোসেনকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।


