নড়াইল সদর উপজেলায় মাদ্রাসার ছয় শিশুছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে মাহবুবুর রহমান (২৫) নামে এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ভোরে গাজীপুর মহানগর পুলিশের গাছা থানার কলাগাছর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নড়াইল সদর থানার ওসি (তদন্ত) অজয় কুমার কুন্ডু গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার মাহবুবুর রহমান নড়াইল সদর উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নের বলরামপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি নড়াইল পৌরসভার ডুমুরতলা এলাকার তাসীর উদ্দিন হাফেজিয়া মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মাদ্রাসার একজন নিয়মিত শিক্ষক ৪৫ দিনের প্রশিক্ষণে যাওয়ায় তার পরিবর্তে মাহবুবুর রহমানকে শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। অভিযোগ, দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন সময়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে মাদ্রাসার কয়েকজন শিশুছাত্রকে যৌন নির্যাতন করেন তিনি।
ঘটনার বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে আসে গত ২৮ আগস্ট। ওই দিন বিকেলে মাদ্রাসায় থাকা নিজের আট বছর বয়সী সন্তানকে দেখতে যান এক শিশুর মা। তখন শিশুটি তার মাকে জানায়, আগের রাতে মাদ্রাসাশিক্ষক মাহবুবুর রহমান তাকে বলাৎকার করেছেন।
পরে বিষয়টি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। শিশুটির কাছে ঘটনার বিস্তারিত জানতে চাইলে সে শিক্ষক মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগের কথা প্রকাশ করে। এরপর মাদ্রাসায় থাকা আরও পাঁচ শিশুছাত্রও একই শিক্ষকের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ করে।
ছয় শিশুর অভিযোগ সামনে আসার পর বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়। এ সময় অভিযুক্ত শিক্ষক মাহবুবুর রহমান আত্মগোপনে চলে যান। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান শুরু করে।
এরপর ভুক্তভোগী এক শিশুর মা বাদী হয়ে ৫ সেপ্টেম্বর নড়াইল সদর থানায় মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে গাজীপুর মহানগর পুলিশের গাছা থানার কলাগাছর এলাকায় তার অবস্থানের সন্ধান পেয়ে রোববার ভোরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নড়াইল সদর থানার ওসি (তদন্ত) অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, ছয় শিশুছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে একজন শিশুর মা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলার আসামি মাহবুবুর রহমানকে গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত শিক্ষক ছয় শিশুর সঙ্গে বলাৎকারের কথা স্বীকার করেছেন। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
শিশুদের সঙ্গে যৌন নির্যাতনের অভিযোগকে অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ হিসেবে দেখা হয়। এমন ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তার ব্যবস্থা করা এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মামলার পর পুলিশি তদন্ত ও আদালতের কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে অভিযোগগুলোর বিস্তারিত যাচাই হওয়ার কথা রয়েছে।



