ফেনীতে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণচেষ্টা ও লুটপাট, গ্রেফতার ৬

ফেনীর দাগনভূঞায় নিজের মালিকানাধীন অটোরিকশায় বাড়ি ফেরার পথে এক গৃহবধূকে (২৫) সংঘবদ্ধভাবে অপহরণ, স্বামীসহ হাত-পা বেঁধে নির্যাতন এবং ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী পরিবারের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থ ও ব্যবহৃত অটোরিকশার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে একদল দুর্বৃত্ত। গত শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে সংঘটিত এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী নিজে বাদী হয়ে দাগনভূঞা থানায় ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত পরিচয়ের আসামিদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের মধ্যে ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী পরিবারের দেওয়া বিবরণ অনুযায়ী, শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রাম থেকে অটোরিকশায় চেপে নোয়াখালীর চরজব্বর উপজেলার মধ্য বাগ্যা গ্রামের নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন ওই গৃহবধূ ও তার স্বামী মাসুদ। রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে তারা ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার ফাজিলেঘাট রোড এলাকার একটি অটোরিকশা গ্যারেজে গাড়ি চার্জ দেওয়ার জন্য থামেন। দীর্ঘ পথযাত্রায় ক্লান্ত স্বামী স্ত্রীকে গ্যারেজে বসিয়ে রেখে রাতের খাবার কিনতে পাশের একটি খাবারের হোটেলে যান।
স্বামী গ্যারেজ থেকে বের হওয়ার পরই আগে থেকে ওত পেতে থাকা একদল বখাটে ও দুষ্কৃতকারী একত্রিত হয়ে গৃহবধূকে ঘিরে ফেলে। পরে তারা গৃহবধূ এবং তাকে রক্ষায় এগিয়ে আসা তার স্বামী দুজনকেই অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে অপহরণ করে জগতপুর এলাকার একটি বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে স্বামীকে একটি কক্ষে হাত-পা বেঁধে রেখে গৃহবধূর পরনের পোশাক খুলে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের চেষ্টা চালানো হয়। অনুনয়-বিনয় সত্ত্বেও অভিযুক্তরা দমে যায়নি; পরবর্তীতে নির্যাতন চালিয়ে স্বামী-স্ত্রী উভয়কে জগতপুর গ্রামের একটি নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে গভীর রাত পর্যন্ত এই পাশবিক নির্যাতন চালানো হয় এবং মূল আসামিদের একজন এতে সরাসরি সহায়তা করে।
নির্যাতনের পাশাপাশি সংঘবদ্ধ চক্রটি গৃহবধূ ও তার স্বামীর ব্যবহৃত দুটি দামী স্মার্টফোন, গৃহবধূর পরিহিত স্বর্ণালংকার, সাথে থাকা একটি সাউন্ডবক্স এবং একটি টেবিল ফ্যান ছিনিয়ে নেয়। চলে যাওয়ার সময় তারা অটোরিকশার ব্যাটারির ভেতরের তারের সংযোগ কেটে বিকল করে দেয় এবং এই নির্যাতনের কথা কাউকে জানালে বা পুলিশের কাছে গেলে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে জানাজানি হলে টহল পুলিশ ভুক্তভোগী দম্পতিকে উদ্ধার করে প্রাথমিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে। পরে ভুক্তভোগী গৃহবধূ থানায় উপস্থিত হয়ে জগতপুর গ্রামের আবুল বাশার, বেগমগঞ্জের মো. রাশেদ, রামগতির মো. জাকির হোসেন, ফেনী সদরের আবদুল মান্নান, সোনাগাজীর দেলোয়ার হোসেন, দাগনভূঞার শাহেদুল ইসলাম, শাহরিয়ার নোমান, জাকের হোসেন এবং কুমিল্লার তিতাস এলাকার মো. শাকিলসহ ৯ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন।
অভিযান চালিয়ে ৬ আসামিকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়জুল আজিম নোমান জানান, খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করেছে এবং এজাহারভুক্ত প্রধান ৬ জন আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। আলামত পরীক্ষার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, মামলায় সরাসরি ধর্ষণের চেষ্টা এবং অপহরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এই বর্বরোচিত ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকা জুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।