লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায় পুকুরে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে একই পরিবারের তিনজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃদ্ধ দাদাকে পানিতে ডুবতে দেখে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছে তার দুই অবুঝ নাতি ও নাতনি। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সদর উপজেলার শাকচর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইব্রাহিম পাটোয়ারী বাড়িতে হৃদয়বিদারক এই ঘটনা ঘটে।
পানিতে ডুবে প্রাণ হারানো তিন ব্যক্তি হলেন শাকচর এলাকার আব্দুল মান্নান পাটোয়ারীর ছেলে আবু সিদ্দিক পাটোয়ারী (৭০), তার ছেলে আব্দুল আজিজের আট বছর বয়সী সন্তান পিয়াস এবং তার মেয়ে সুমি আক্তারের ছয় বছর বয়সী কন্যাসন্তান পপি আক্তার। একই পরিবারের তিন সদস্যের এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো পাটোয়ারী বাড়ি ও আশপাশের এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে জানা যায়, দুপুরে আবু সিদ্দিক তার দুই নাতি-নাতনিকে সাথে নিয়ে বাড়ির সামনের পুকুরে গোসল করতে নামেন। পুকুরে নেমে তিনি একটি ডুব দেন, কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও তিনি আর পানির ওপর ভেসে ওঠেননি। দাদাকে দীর্ঘক্ষণ ভেসে না উঠতে দেখে পাড়ে থাকা ছোট পিয়াস ও পপি চিন্তিত হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে দাদাকে খোঁজার জন্য অবুঝ দুই শিশুও পুকুরের গভীর পানিতে নেমে যায়। সাতার না জানার কারণে পানিতে নেমে তারাও তলিয়ে যায়।
বাড়ির লোকজন তাদের অনেকক্ষণ দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টা পর স্থানীয়রা পুকুরে নেমে তিনজনেরই নিথর দেহ উদ্ধার করেন। স্থানীয়দের ধারণা, গোসলের সময় বৃদ্ধ আবু সিদ্দিক পানির নিচে হৃদরোগে (স্ট্রোক) আক্রান্ত হয়েছিলেন। যার ফলে তিনি আর ভেসে উঠতে পারেননি। আর তাকে পানির নিচ থেকে টেনে তোলার চেষ্টা করতে গিয়েই দুই শিশু প্রাণ হারায়।
শাকচর ইউনিয়ন পরিষদের স্থানীয় সদস্য মেহেদী হাসান ফারুক একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পুরো বিষয়টি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। ঘটনাটি জানার পর এলাকার বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে, স্বজনদের কান্নায় পরিবেশ শোকাচ্ছন্ন।
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ জানান, খবর পাওয়ার পর পরই ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। শোকাহত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হচ্ছে।


