নাটোরে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া সাত বছরের এক শিশুকন্যাকে ধর্ষণের মামলায় অভিযুক্ত যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নাটোরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শারমিন আখতার এই রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির নাম আবু বকর সিদ্দিক (২১)। সে নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার বিজয় নগর গ্রামের মো. আবু হানিফের ছেলে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, অনাদায়ে বা আদায়ের পর ধার্যকৃত ৫০ হাজার টাকার জরিমানার সম্পূর্ণ অর্থ ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারকে প্রদান করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার নথিপত্র ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সকালে। স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণিতে অধ্যয়নরত ওই শিশু প্রতিদিনের মতো সকাল আটটার দিকে বিদ্যালয়ে যাচ্ছিল। পথে একই গ্রামের যুবক আবু বকর সিদ্দিক তাকে নির্জন রাস্তা থেকে প্রলোভন দেখিয়ে ডেকে পাশের একটি ফাঁকা ঘরে নিয়ে যায় এবং জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।
নির্যাতনের পর শিশুটি কান্নাকাটি করতে করতে বাড়ি ফিরে এসে স্বজনদের বিষয়টি বিস্তারিত জানায়। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় অভিভাবকরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন। চিকিৎসা চলাকালেই ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা বাদী হয়ে অভিযুক্ত আবু বকর সিদ্দিককে একমাত্র আসামি করে সিংড়া থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পর পরই তৎপর হয়ে ওঠে পুলিশ প্রশাসন। অভিযুক্ত আবু বকর সিদ্দিককে দ্রুত গ্রেফতার করে নাটোর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র বা চার্জশিট দাখিল করেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ায় ভুক্তভোগী শিশুর চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য ও পর্যাপ্ত শারীরিক আলামত খতিয়ে দেখা হয়। একই সাথে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে মোট ১০ জন প্রত্যক্ষদর্শী ও বিশেষজ্ঞ সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন করা হয়।
আদালত যুক্তিতর্ক ও সাক্ষ্য-প্রমাণের গভীর পর্যালোচনা শেষে আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় রোববার দুপুরে এই রায় দেন। বিচারকের চূড়ান্ত আদেশ ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিল। পরে কড়া নিরাপত্তায় তাকে পুনরায় জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।



