সিলেট নগরের জিন্দাবাজার এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই বছরের এক শিশু নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে এ দুর্ঘটনায় শিশুটির বাবা, মা ও এক ভাতিজা আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর অটোরিকশাটি আটক করা হলেও চালক পালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহত শিশুটির নাম আবদুল্লাহ। সে পরিবারের সঙ্গে সিলেট নগরের খাসদবীর এলাকায় থাকত। তার বাবা রাকিবুল ইসলাম স্ত্রী, দুই বছরের ছেলে ও এক ভাতিজাকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে বন্দরবাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে জিন্দাবাজার এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে তাঁদের মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অটোরিকশাটি উল্টো পথে আসছিল। সংঘর্ষের সময় মোটরসাইকেলের সামনের অংশ থেকে ছিটকে সড়কে পড়ে যায় শিশু আবদুল্লাহ। এতে সে গুরুতর আহত হয়। মোটরসাইকেলে থাকা অন্য তিনজনও আহত হন।
দুর্ঘটনার পর আশপাশের লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে চারজনকে উদ্ধার করেন। পরে তাঁদের সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর আবদুল্লাহকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত তিনজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খান মুহাম্মদ মাইনুল জাকির দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুর্ঘটনার পর সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি আটক করা হয়েছে। তবে চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছেন। তাঁকে শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে।
পরিবারের স্বজনদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, রাকিবুল ইসলাম ২০১৯ সালে বিয়ে করেন। বিয়ের প্রায় ছয় বছর পর তাঁদের ঘরে আসে আবদুল্লাহ। ফলে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পাওয়া সন্তানকে হারিয়ে পরিবারটিতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। রাকিবুলের সহকর্মী আশিকুর রহমান খান শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আবদুল্লাহর জন্মের পর পরিবারে আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল।
জিন্দাবাজার সিলেট নগরের ব্যস্ততম এলাকাগুলোর একটি। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ ও যানবাহন এ এলাকার সড়ক দিয়ে চলাচল করে। এমন ব্যস্ত সড়কে বিপরীতমুখী বা উল্টো পথে যান চলাচল করলে সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষ করে মোটরসাইকেলে শিশু বহনের ক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় গুরুতর আঘাতের আশঙ্কা থাকে।
এ ঘটনায় শিশুটির মরদেহের বিষয়ে হাসপাতাল ও পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে অটোরিকশাচালককে আটক করে দুর্ঘটনার কারণ এবং তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।


