গোপালগঞ্জ পৌর পার্কে কনসার্ট আয়োজনের আগে পুলিশের অনুমতি না নেওয়া এবং অনুষ্ঠান চলাকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় এফএনএফ কনভেনশন হল অ্যান্ড পার্টি সেন্টারের স্বত্বাধিকারী হাফিজুর রহমান ওরফে পিয়ালকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার সকালে গোপালগঞ্জ সদর থানা-পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। পরে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। পুলিশ জানিয়েছে, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আগে করা একটি মামলায় হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার এফএনএফ কনভেনশন হল অ্যান্ড পার্টি সেন্টারের উদ্বোধন উপলক্ষে গোপালগঞ্জ পৌর পার্কে একটি কনসার্টের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন সংগীতশিল্পী মাইনুল আহসান নোবেল। সন্ধ্যার দিকে অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার পর সেখানে বিপুলসংখ্যক দর্শক উপস্থিত হন।
অনুষ্ঠান চলার একপর্যায়ে দর্শকসারি থেকে শেখ হাসিনার পক্ষে স্লোগান দেওয়া শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আয়োজকেরা স্লোগান বন্ধ করার চেষ্টা করেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। মঞ্চ থেকেও ঘোষণা দেওয়া হয়, এটি কোনো রাজনৈতিক অনুষ্ঠান নয়। এরপরও স্লোগান বন্ধ না হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশের নজরদারি বাড়ে।
পরে রাত সোয়া ৯টার দিকে অনুষ্ঠানটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। কনসার্ট বন্ধ হওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি নিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হয়।
গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হবীবুল্লাহ বলেন, পুলিশের অনুমতি ছাড়াই কনসার্টের আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় এবং সেখানে নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মী-সমর্থকেরা একত্র হয়েছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে হাফিজুর রহমানকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে যে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, সেটি আগে থেকেই সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা হয়েছিল। তবে ওই মামলার বাদী, এজাহারে উল্লেখিত অভিযোগ এবং মামলার অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হয়নি।
পুলিশ সুপারের কাছে মামলার বাদী ও এজাহার সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পুলিশ যেভাবে তাঁকে আদালতে পাঠিয়েছে, সেভাবেই বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
হাফিজুর রহমানের পারিবারিক পরিচয়ের বিষয়টিও স্থানীয়ভাবে আলোচনায় এসেছে। তাঁর বাবা খালিদ হোসেন টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ এবং বর্নি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন বলে জানা গেছে।
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জ পৌর পার্কের কনসার্ট আয়োজন, পুলিশের অনুমতি এবং অনুষ্ঠানস্থলে রাজনৈতিক স্লোগানের বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমেই বিস্তারিত তথ্য স্পষ্ট হবে।


