দেশে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এতে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২ জনে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মোট মৃত্যুর মধ্যে ৯০২ জন মারা গেছে হামের উপসর্গ নিয়ে এবং ১০০ জনের মৃত্যু হয়েছে নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হয়ে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় যে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তারা সবাই হামের উপসর্গে ভুগছিল। তবে এ সময়ে নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হয়ে নতুন করে কোনো মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি।
মৃত্যুর পাশাপাশি হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্তের সংখ্যাও উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১ হাজার ১১৯ জন আক্রান্ত হয়েছে। একই সময়ে ৬৯ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে।
এ নিয়ে ১৫ মার্চ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৮৪ জনে। এর মধ্যে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫৮০ জন হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছে এবং ১৯ হাজার ৯০৪ জনের ক্ষেত্রে হাম নিশ্চিত হয়েছে।
এই সময়ে আক্রান্তদের একটি বড় অংশকে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩৯৩ জন। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৮১৯ জন।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আক্রান্তদের মধ্যে উপসর্গের রোগীর সংখ্যাই বেশি। মোট ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৮৪ আক্রান্তের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশই হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসার আওতায় এসেছে। অন্যদিকে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে প্রায় ২০ হাজার রোগীর ক্ষেত্রে।
একই সময়ে এক হাজারের বেশি শিশুর মৃত্যুর ঘটনা পরিস্থিতির গুরুতর দিকটি সামনে এনেছে। বিশেষ করে উপসর্গজনিত মৃত্যুর সংখ্যা নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যুর তুলনায় অনেক বেশি। ফলে হাম সন্দেহে আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসার আওতায় আনা এবং জটিলতা দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দৈনিক হিসাবেই আক্রান্ত ও মৃত্যুর চিত্র প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্ত ও মৃত্যুর তথ্য যুক্ত হওয়ায় সামগ্রিক সংখ্যাও বেড়েছে। ১৫ মার্চ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ের এই পরিসংখ্যান দেশে হাম পরিস্থিতির ব্যাপকতা এবং শিশুদের ওপর এর বড় ধরনের প্রভাবের চিত্র তুলে ধরছে।


