দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। এডিস মশাবাহিত এই রোগে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে নতুন করে ৭৯০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪১ জনে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত এক দিনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় একজন এবং চট্টগ্রাম বিভাগে একজন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
নতুন রোগী শনাক্ত ও হাসপাতালে ভর্তির দিক থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে ঢাকা বিভাগে পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি উদ্বেগজনক। গত ২৪ ঘণ্টায় এই বিভাগে ২৪৯ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চট্টগ্রাম বিভাগে ভর্তি হয়েছেন ১৯৬ জন। এছাড়া ময়মনসিংহে ৭৩, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ৬২ এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ৬১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
একই সময়ে খুলনা বিভাগে ৬০ জন, রংপুরে ৩৮, রাজশাহীতে ৩৩ এবং বরিশাল বিভাগে ১৮ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। অর্থাৎ রাজধানী ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন বিভাগে নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ার ধারাবাহিকতা এখনো রয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব বলছে, ১ জানুয়ারি থেকে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট ১৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৭২ জন মারা গেছেন ঢাকা বিভাগে, যার মধ্যে দুই সিটি করপোরেশন এলাকার রোগীরাও রয়েছেন।
এ ছাড়া খুলনা বিভাগে ডেঙ্গুতে ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। ময়মনসিংহে মারা গেছেন ১৪ জন, বরিশালে ১২ জন এবং চট্টগ্রামে ১০ জন। রাজশাহী বিভাগে ছয়জন এবং রংপুর ও সিলেট বিভাগে একজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিদিনের পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর ঘটনা দেশের একাধিক অঞ্চলে ছড়িয়ে রয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা বিভাগ ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে নতুন রোগী ভর্তির সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। ফলে হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীর চাপ সামাল দেওয়া এবং আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার ওপর বরাবরই গুরুত্ব দিয়ে আসছে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে জ্বর বা ডেঙ্গুর সম্ভাব্য উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
চলতি বছরের শুরু থেকে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা ১৪১-এ পৌঁছানো এবং এক দিনে ৭৯০ জনের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তথ্য দেশে রোগটির চলমান বিস্তারের চিত্র তুলে ধরছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আক্রান্তদের যথাযথ চিকিৎসার পাশাপাশি মশার বিস্তার রোধে সমন্বিত পদক্ষেপ অব্যাহত রাখা জরুরি।


