জামালপুরের মাদারগঞ্জে নিখোঁজের তিন দিন পর সাত বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার গভীর রাতে উপজেলার চরলোটাবর এলাকার একটি বসতঘরের মাটির নিচে মাটিচাপা অবস্থায় মরিয়ম আক্তার নামের ওই শিশুর মরদেহ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।
মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশীষ রায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শনিবার রাত ১টার দিকে চরলোটাবর এলাকার একটি বাড়ি থেকে মরিয়মের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে মরদেহটি থানায় নেওয়া হয়েছে।
নিহত মরিয়ম আক্তার ওই এলাকার বাহাদুর আলীর মেয়ে। সে সিধুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, তিন দিন আগে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পর থেকে মরিয়মের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না।
শিশুটি বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা প্রথমে আত্মীয়স্বজন ও আশপাশের বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করতে থাকেন। স্থানীয়ভাবেও তার সন্ধান চালানো হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও মরিয়মের কোনো খোঁজ না মেলায় পরিবারের উদ্বেগ বাড়তে থাকে।
এরপর শনিবার রাতে বিদ্যালয়ের পাশের একটি বসতঘরে শিশুটির মরদেহ মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় থাকার বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের নজরে আসে। ওই ঘরটি জামিনুর নামের এক ব্যক্তির বলে জানা গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাটি খুঁড়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, মরিয়মকে হত্যা করার পর তার মরদেহ গোপন করার উদ্দেশ্যে ঘরের মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয়ে থাকতে পারে। তবে শিশুটির মৃত্যুর সঠিক কারণ, ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং কীভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে—এসব বিষয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ওসি স্নেহাশীষ রায় বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মরিয়মের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা এবং পরে তার মরদেহ বাড়ির কাছাকাছি একটি ঘরের মাটির নিচ থেকে উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পর একটি শিশুর তিন দিন নিখোঁজ থাকা এবং পরে তার মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। আটক দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদসহ তদন্তের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলছে। মরিয়মের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার পেছনের পুরো বিষয়টি তদন্ত শেষ হলে আরও স্পষ্ট হবে।


