মিশরীয় তরুণ ফরোয়ার্ড হামজা আব্দেলকরিমের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি নিশ্চিত করেছে বার্সেলোনা। নতুন চুক্তির আওতায় ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত কাতালান ক্লাবটিতে থাকবেন ১৯ বছর বয়সী এই ফুটবলার। যুব দল থেকে দ্রুত মূল দলে উঠে আসা আব্দেলকরিমকে নিয়ে ক্লাবের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনারই ইঙ্গিত মিলেছে এই চুক্তিতে।
বার্সেলোনার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর ক্লাবের সভাপতি হোয়ান লাপোর্তার সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন চুক্তিতে সই করবেন আব্দেলকরিম। ক্লাবের কার্যালয়ে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর বাণিজ্যিক অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হওয়ার কথা রয়েছে তার।
মিশরে বয়সভিত্তিক ফুটবলে খেলার সময় থেকেই আব্দেলকরিমের প্রতিভা নজরে আসে। বিশেষ করে গোল করার দক্ষতা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছিল। সেই কারণেই ফুটবল অঙ্গনে তিনি ‘মিশরের হালান্ড’ নামে পরিচিতি পান। বিশ্বের অন্যতম আলোচিত স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ডের সঙ্গে এই তুলনা মূলত আব্দেলকরিমের গোল করার সামর্থ্য ও আক্রমণভাগে তার কার্যকারিতার কারণে।
বার্সেলোনার যুব দলে সুযোগ পাওয়ার পরও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে খুব বেশি সময় নেননি তিনি। মন্টেকার্লোর বিপক্ষে ৯-০ গোলের বড় জয়ে হ্যাটট্রিক করেন আব্দেলকরিম। সেই ম্যাচে তার গোল করার দক্ষতা দলের বড় জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ওই জয়েই অনূর্ধ্ব-১৯ দল ডিভিশন দনার শিরোপা নিশ্চিত করে।
যুব পর্যায়ের পারফরম্যান্সের পর ২০২৬ সালের গ্রীষ্মে আব্দেলকরিমের সঙ্গে স্থায়ী চুক্তি করে বার্সেলোনা। ক্লাবের আস্থা পাওয়ার পর মূল দলের প্রস্তুতিতেও নিজেকে মেলে ধরেন তিনি। কোচ হান্সি ফ্লিকের অধীনে প্রাক-মৌসুমে চারটি গোল করে দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন এই তরুণ ফরোয়ার্ড।
প্রাক-মৌসুমের সেই পারফরম্যান্স তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এতে মূল দলের পরিকল্পনায় তার উপস্থিতি আরও দৃশ্যমান হয় এবং সিনিয়র দলের সঙ্গে নিয়মিতভাবে কাজ করার সুযোগ পান তিনি। বয়স কম হলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছেন আব্দেলকরিম।
এরপর আসে ক্যারিয়ারের আরেকটি বড় মুহূর্ত। গত ৩১ আগস্ট স্পোটিফাই ক্যাম্প নউয়ে রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে বার্সেলোনার মূল দলে অভিষেক হয় তার। একাডেমি থেকে সিনিয়র দলের দরজা পেরিয়ে মাঠে নামার মাধ্যমে আব্দেলকরিমের দ্রুত উত্থানের আরেকটি ধাপ পূর্ণ হয়।
মাত্র ১৯ বছর বয়সে যুব ফুটবল থেকে বার্সেলোনার মূল দলে জায়গা করে নেওয়া সহজ নয়। আব্দেলকরিমের ক্ষেত্রে অবশ্য ধারাবাহিক পারফরম্যান্সই তাকে এগিয়ে দিয়েছে। যুব দলে গোল, অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ে শিরোপা, প্রাক-মৌসুমে চার গোল এবং এরপর মূল দলের অভিষেক—অল্প সময়ের ব্যবধানে তার ক্যারিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে।
নতুন চুক্তির মাধ্যমে সেই অগ্রগতিকে আরও দীর্ঘমেয়াদি স্বীকৃতি দিল বার্সেলোনা। ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত চুক্তি থাকায় ক্লাবটির সঙ্গে তার সম্পর্ক এখন বেশ কয়েক বছরের জন্য নিশ্চিত হলো। তবে সামনে তার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে মূল দলে নিজের জায়গা আরও শক্ত করা এবং নিয়মিত সুযোগ পেলে পারফরম্যান্স ধরে রাখা।
যুব দল থেকে উঠে আসা একজন ফরোয়ার্ড হিসেবে আব্দেলকরিমের সামনে এখন দীর্ঘ পথ। বার্সেলোনার জার্সিতে তার প্রথম দিকের পারফরম্যান্স ইতোমধ্যে প্রত্যাশা তৈরি করেছে। ‘মিশরের হালান্ড’ হিসেবে পাওয়া পরিচিতিকে বাস্তব সাফল্যে রূপ দিতে হলে আগামী দিনগুলোতে সিনিয়র ফুটবলে ধারাবাহিকতা দেখানোই হবে তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।


