মিরাজের দারুণ পারফরম্যান্সেও গায়ানার হার

ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) অভিষেক মৌসুমে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে চলেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্সের হয়ে শুরুতে বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর এবার ব্যাটিংয়েও অবদান রাখলেন বাংলাদেশের এই অলরাউন্ডার। তবে তার অলরাউন্ড নৈপুণ্যও দলকে লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে জয় এনে দিতে পারেনি। বার্বাডোজ ট্রাইডেন্টসের কাছে ৬ উইকেটে হেরেছে গায়ানা।

ব্রিজটাউনের কেনসিংটন ওভালে টস জিতে গায়ানাকে প্রথমে ব্যাটিংয়ে পাঠায় বার্বাডোজ। শুরু থেকেই চাপে পড়ে গায়ানার ব্যাটিং। মাত্র ১৫ রানেই তিনটি উইকেট হারিয়ে বসে তারা। এমন বিপর্যয়ের মধ্যেই উইকেটে আসেন মিরাজ। দলের ইনিংসকে কিছুটা স্থিতিশীল করার চেষ্টা করেন তিনি, কিন্তু বড় সংগ্রহের ভিত্তি গড়ে তুলতে পারেননি।

মিরাজ ২৪ বলে করেন ১৮ রান। তার ইনিংসে ছিল একটি চার ও একটি ছক্কা। টি-টোয়েন্টির বিচারে রান তোলার গতি খুব বেশি না হলেও পরিস্থিতি বিবেচনায় শুরুতে ঝুঁকি কমিয়ে ব্যাটিং করাই ছিল তার লক্ষ্য। শেষ পর্যন্ত অবশ্য গায়ানার ইনিংস বড় হয়নি। ১৮.১ ওভারে ৯৯ রানে অলআউট হয় তারা।

গায়ানার ব্যাটিং বিপর্যয়ে বড় ভূমিকা রাখেন আফগানিস্তানের স্পিনার আল্লাহ গজনফর। তিনি ১৭ রান দিয়ে তিন উইকেট নেন। লেইনও ১৪ রান খরচ করে তিনটি উইকেট তুলে নেন। ফলে গায়ানার ব্যাটসম্যানরা নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকেন। ফিলিপস ২৪ ও শেফার্ড ২২ রান করে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ অবদান রাখেন, আর মিরাজের ১৮ রান আসে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে।

মাত্র ১০০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি বার্বাডোজকে। ১৪.৫ ওভারে চার উইকেট হারিয়ে ১০০ রান তুলে নেয় তারা। অর্থাৎ হাতে ছিল আরও ৩১ বল। কিং ৪৪ রানে অপরাজিত থাকেন। ডেকার্ট করেন ৩২ রান। তাদের ব্যাটিংয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ দ্রুতই বার্বাডোজের হাতে চলে যায়।

বল হাতে অবশ্য আবারও নিজের কার্যকারিতা দেখান মিরাজ। বার্বাডোজের ইনিংসে কুইন্টন ডি কককে বোল্ড করেন তিনি। পরে স্যাড্রার্ক ডেকার্টকে রোনালদো আলীমোহাম্মদের ক্যাচে পরিণত করেন। চার ওভারে ২৫ রান দিয়ে দুটি উইকেট নিয়ে শেষ করেন মিরাজ। ফলে ম্যাচে ব্যাট ও বল—দুই বিভাগেই দলের হয়ে অবদান রাখেন তিনি।

সিপিএলে মিরাজের শুরুটাও হয়েছে বেশ ভালোভাবে। গায়ানার হয়ে প্রথম ম্যাচে তিন উইকেট নেওয়ার পর দ্বিতীয় ম্যাচে চার উইকেট শিকার করেন তিনি। দ্বিতীয় ম্যাচে ম্যাচসেরার পুরস্কারও পান বাংলাদেশের এই অলরাউন্ডার। তবে ওই দুই ম্যাচে ব্যাট হাতে তার সংগ্রহ ছিল যথাক্রমে ১ ও ২ রান। বার্বাডোজের বিপক্ষে ১৮ রান করে ব্যাটিংয়েও নিজের সামর্থ্যের কিছুটা জানান দিলেন তিনি।

তবে গায়ানার জন্য এই পরাজয় নিয়ে খুব বেশি চিন্তার কারণ নেই। লিগ পর্ব শেষ হওয়ার আগেই প্লে-অফ নিশ্চিত করেছিল দলটি। ফলে বার্বাডোজের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল মূলত লিগ পর্বের শেষ আনুষ্ঠানিক লড়াই। হারলেও পরের ধাপে যাওয়ার পথে এর কোনো প্রভাব পড়েনি।

এখন গায়ানার সামনে আরও গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। বাংলাদেশ সময় শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর সকালে প্রথম কোয়ালিফায়ারে অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডা ফ্যালকনসের মুখোমুখি হবে তারা। সেই ম্যাচে জয় পেলে ফাইনালে ওঠার সুযোগ তৈরি হবে। তাই লিগ পর্বের শেষ ম্যাচের ব্যর্থতা দ্রুত পেছনে ফেলে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের জন্য প্রস্তুত হতে হবে গায়ানাকে।

মিরাজের জন্যও প্লে-অফ হতে পারে নিজের সামর্থ্য আরও একবার তুলে ধরার মঞ্চ। শুরুতে তার বোলিং ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছে। এবার ব্যাট হাতেও অবদান রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। গায়ানা নকআউট পর্বে এগিয়ে যেতে চাইলে মিরাজের মতো একজন কার্যকর অলরাউন্ডারের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।