ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) নিজের তৃতীয় ম্যাচেও বল হাতে দারুণ পারফরম্যান্স দেখালেন বাংলাদেশের অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ। তাঁর নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়ার্সের জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হলেও ব্যাটারদের ব্যর্থতায় শেষ পর্যন্ত বার্বাডোজ রয়্যালসের কাছে ৬ উইকেটে হেরে গেছে দলটি।
সিপিএলে এখন পর্যন্ত তিন ম্যাচে মিরাজের পারফরম্যান্স নজর কেড়েছে। এই ম্যাচেও তিনি ২৫ রান খরচ করে নিয়েছেন ২ উইকেট। সব মিলিয়ে তিন ম্যাচে তাঁর শিকার ৯ উইকেট। ফলে গায়ানার হয়ে বাংলাদেশের এই অফস্পিনার এখন দলের বোলিং আক্রমণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে উঠেছেন।
তবে মিরাজের ব্যক্তিগত সাফল্যের রাতে গায়ানার ব্যাটিং ছিল পুরোপুরি হতাশাজনক। টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে তারা। ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই মাত্র ১৫ রানের মধ্যে তিনটি উইকেট হারায় গায়ানা। দ্রুত উইকেট হারানোর পর ইনিংস সামলানোর দায়িত্ব পড়ে গ্লেন ফিলিপস ও মিরাজের ওপর।
দুজন মিলে ২৩ রানের জুটি গড়েন। তবে সেই জুটি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ২৪ রান করে আউট হন ফিলিপস, যা শেষ পর্যন্ত গায়ানার ইনিংসে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ হয়ে থাকে। অর্থাৎ পুরো দলের ব্যাটিং ব্যর্থতার চিত্রটা কতটা স্পষ্ট, সেটি এই একটি পরিসংখ্যানেই বোঝা যায়।
গায়ানার ব্যাটিং বিপর্যয় থামেনি এরপরও। দলের হয়ে তৃতীয় সর্বোচ্চ ১৮ রান করেন আরেক ব্যাটার। ২৪ বলের সেই ইনিংসে ছিল একটি চার ও একটি ছক্কা। কিন্তু বড় জুটি না হওয়ায় রান বাড়ানোর সুযোগ পায়নি গায়ানা।
ইনিংসের শেষ দিকে রোমারিও শেফার্ড ও ইমরান তাহির কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। দুজনের ব্যাটে আসে ৩১ রানের জুটি, যা গায়ানার ইনিংসে সর্বোচ্চ জুটি। শেষ পর্যন্ত ২২ রান করে দলের শেষ ব্যাটার হিসেবে আউট হন শেফার্ড। ১৮.১ ওভারে মাত্র ৯৯ রানে অলআউট হয়ে যায় গায়ানা।
বার্বাডোজের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন এএম গজনফার ও জোহান লেইন। দুজনই তিনটি করে উইকেট নেন। গায়ানার ব্যাটিং লাইনআপকে বড় সংগ্রহ গড়ার সুযোগ না দেওয়ার পেছনে তাঁদের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
১০০ রানের ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেও শুরুটা খুব স্বস্তির ছিল না বার্বাডোজের। ৩৬ রানের মধ্যেই তারা হারায় তৃতীয় উইকেট। সেই সময় গায়ানার জয়ের আশা কিছুটা জিইয়ে রেখেছিলেন মিরাজ।
পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে কুইন্টন ডি ককের অফস্টাম্প ভেঙে দেন বাংলাদেশের এই অফস্পিনার। এরপর ১২তম ওভারে শ্যাডর্যাক ডেসকার্টেকেও নিজের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত করেন তিনি। ডেসকার্টে ৩২ রান করে আউট হন। মিরাজের দ্বিতীয় উইকেটের পরও অবশ্য বার্বাডোজের জয়ের ভিত তখন শক্ত হয়ে গেছে।
শেষ পর্যন্ত আর কোনো বিপদ হতে দেননি ব্র্যান্ডন কিং। ৪৪ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জয় এনে দেন তিনি। ১৪.৫ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১০০ রান তুলে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বার্বাডোজ।
গায়ানার জন্য এই হার অবশ্য বড় ম্যাচের আগে কিছুটা সতর্কবার্তা হয়ে এল। কারণ আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডা ফ্যালকন্সের বিপক্ষে প্রথম কোয়ালিফায়ারে মাঠে নামবে তারা। সেই ম্যাচ জিতলে সরাসরি ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত হবে। ফ্যালকন্সের বিপক্ষেই লিগ পর্বে গায়ানা তাদের প্রথম পরাজয়ের মুখ দেখেছিল।
তাই কোয়ালিফায়ারের আগে ব্যাটিং ব্যর্থতা কাটিয়ে ওঠাই গায়ানার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে মিরাজের ধারাবাহিক বোলিং দলটির জন্য বড় স্বস্তি। তিন ম্যাচে ৯ উইকেট নিয়ে তিনি ইতিমধ্যে টুর্নামেন্টের আলোচনায় জায়গা করে নিয়েছেন। এখন গায়ানার প্রয়োজন হবে সেই বোলিং সাফল্যের সঙ্গে ব্যাটারদের কাছ থেকে কার্যকর অবদান। তা না হলে নকআউট পর্বে মিরাজের একার পারফরম্যান্স দলকে কতটা এগিয়ে নিতে পারবে, সেটিই হয়ে উঠবে বড় প্রশ্ন।


