টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের দীর্ঘ হারের ধারার অবসান না হলেও, একটি পরিসংখ্যানে স্বস্তি মিলেছে। ভারতের বিপক্ষে টানা সবচেয়ে বেশি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ হারের রেকর্ডে বাংলাদেশের সঙ্গে আর একা নেই আফগানিস্তান। বরং নতুন করে শীর্ষস্থান দখল করেছে আফগানরা।
বাংলাদেশ সর্বশেষ ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ জিতেছিল ২০১৯ সালের ৩ নভেম্বর। এরপর ভারতের বিপক্ষে খেলা পরের নয় ম্যাচেই হেরেছে বাংলাদেশ। দীর্ঘ এই সময়ে টি-টোয়েন্টির সবচেয়ে ছোট সংস্করণে দুই দলের লড়াইয়ে ভারতের আধিপত্য ছিল স্পষ্ট। টানা নয়টি পরাজয়ের সেই পরিসংখ্যানই এত দিন ভারতের বিপক্ষে কোনো দলের সবচেয়ে দীর্ঘ হারের ধারা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল।
সেই জায়গায় এবার বাংলাদেশের পাশে উঠে এসেছে আফগানিস্তান। দিল্লিতে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে গতকাল ভারত ৭ উইকেটে আফগানিস্তানকে হারিয়েছে। এই পরাজয়ের ফলে ভারতের বিপক্ষে আফগানিস্তানের টানা হারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ ম্যাচে। ফলে বাংলাদেশকে পেছনে ফেলে তালিকার শীর্ষে উঠে গেছে আফগানিস্তান।
আফগানিস্তানের ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি জয়হীন থাকার সময়টাও বেশ দীর্ঘ। ২০১০ সালের পর থেকে ভারতকে হারাতে পারেনি তারা। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে দুই দলের একটি ম্যাচ অবশ্য টাই হয়েছিল। তবে সেই ম্যাচের সুপার ওভারে জয় পায় ভারত। ফলে আনুষ্ঠানিকভাবে আফগানিস্তানের ভারতের বিপক্ষে জয়ের খরা তখনও কাটেনি।
ভারতের বিপক্ষে টানা হারের তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে জিম্বাবুয়ে। দলটি ভারতের বিপক্ষে সর্বশেষ আটটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচেই হেরেছে। তবে জিম্বাবুয়ের ক্ষেত্রে পরিসংখ্যানের আরেকটি দিক গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের বিপক্ষে তাদের তিনটি টি-টোয়েন্টি জয় রয়েছে। সর্বশেষ জয়টি এসেছে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে।
এর আগে ২০১৫ ও ২০১৬ সালেও ভারতকে টি-টোয়েন্টিতে হারিয়েছিল জিম্বাবুয়ে। ফলে সর্বশেষ আট ম্যাচে টানা পরাজিত হলেও দুই দলের মুখোমুখি ইতিহাস পুরোপুরি ভারতের একতরফা আধিপত্যের গল্প নয়। সময়ের ব্যবধানে জিম্বাবুয়ে যে ভারতকে হারাতে পেরেছে, সেটিও রেকর্ডে রয়েছে।
ভারতের বিপক্ষে টানা হারের তালিকায় বাংলাদেশের নাম অবশ্য একবার নয়, দুবার এসেছে। ২০১৯ থেকে ২০২৫ সময়ের মধ্যে টানা নয়টি ম্যাচে হারার পাশাপাশি এর আগে ২০০৯ থেকে ২০১৮ সালেও ভারতের বিপক্ষে টানা আটটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ হেরেছিল বাংলাদেশ। অর্থাৎ ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে বাংলাদেশের দীর্ঘ হারের দুটি আলাদা পর্ব রয়েছে।
এই তালিকায় রয়েছে আয়ারল্যান্ডও। ভারতের বিপক্ষে টানা আট ম্যাচ হারের পর গত জুনে সেই ধারার ইতি টেনেছে আইরিশরা। শুধু তাই নয়, ভারতকে টানা দুই ম্যাচে হারিয়ে সিরিজও জিতে নেয় তারা। ফলে পরিসংখ্যানটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকও দেখায়—দীর্ঘ হারের ধারা থাকলেও সেটি চিরস্থায়ী নয়।
বাংলাদেশের জন্য অবশ্য এই পরিসংখ্যানের তাৎপর্য আলাদা। আফগানিস্তান ভারতের বিপক্ষে দশম টানা হার পাওয়ায় বাংলাদেশ অন্তত টানা হারের সংখ্যায় আর এককভাবে শীর্ষে নেই। কিন্তু বাংলাদেশের সামনে বড় চ্যালেঞ্জটি থেকেই যাচ্ছে—ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে দীর্ঘ সময়ের জয়ের খরা কাটানো।
ক্রিকেটে মুখোমুখি পরিসংখ্যান একটি দলের অতীত চিত্র তুলে ধরে, কিন্তু প্রতিটি ম্যাচের ফল নির্ধারিত হয় নতুন করে। আয়ারল্যান্ডের সাম্প্রতিক সাফল্যও সেটিই মনে করিয়ে দেয়। ভারতের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ধারাবাহিকভাবে হারলেও একটি জয়ই বদলে দিতে পারে দীর্ঘদিনের পরিসংখ্যান। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এখন অপেক্ষা সেই একটি জয়ের।


