পঞ্চগড়ে পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম হুমায়ূন কবির উজ্জলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শহরের ঢাকাইয়াপট্টি এলাকার নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে একই দিন বিকেলে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এস এম হুমায়ূন কবির উজ্জলের বিরুদ্ধে পঞ্চগড় সদর থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এসব মামলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় নিখোঁজ আল আমিনকে গুম করে হত্যার অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলাসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।
বুধবার দুপুরে নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তারের পর উজ্জলকে থানায় নেওয়া হয়। সেখানে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর তাকে আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ। শুনানি শেষে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে আদালতের আদেশ অনুযায়ী তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখলেছুর রহমান উজ্জলকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, উজ্জলের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা ছিল। আইনি কার্যক্রম শেষে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, মামলাগুলোতে উজ্জলের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে আন্দোলনের সময় আল আমিনের নিখোঁজ হওয়া এবং তাকে গুম করে হত্যার অভিযোগও রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগে করা মামলাও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হওয়ার বিষয়।
উজ্জল পঞ্চগড় পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে সংগঠনটির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা এই নেতার গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে নেওয়া হয় এবং সেখান থেকেই কারাগারে পাঠানোর আদেশ আসে।
মামলাগুলোর পরবর্তী কার্যক্রম আইন অনুযায়ী আদালতে চলবে। অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হলেও অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন কোনো সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য, প্রমাণ ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনার পর অভিযোগগুলোর বিষয়ে আদালত সিদ্ধান্ত দেবেন।
পুলিশ জানিয়েছে, উজ্জলের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর আইনগত কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তিনি কারাগারে রয়েছেন।


