সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ হোসনা আরা বেগম (২৬) নামের এক নারী মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। গোপন সূত্রে প্রাপ্ত সুনির্দিষ্ট ও নির্ভরযোগ্য সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এক যৌথ সফল অভিযানে তার কাছ থেকে মোট ৬৩০ পিস ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হয়। জব্দকৃত এই ক্ষতিকর ও অবৈধ মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১ লাখ ৮৯ হাজার টাকা বলে নিশ্চিত করেছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তঘেঁষা দোয়ারাবাজার উপজেলার বিভিন্ন দুর্গম ও গ্রামীণ এলাকায় একটি চিহ্নিত চক্র দীর্ঘদিন ধরে গোপনে মাদকের কারবার চালিয়ে আসছিল। মাদক চোরাচালানের এই অপতৎপরতা বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ধারাবাহিকভাবে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধিসহ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এরই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ১০টার দিকে দোয়ারাবাজার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সঞ্জয় দত্তের নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ চৌকস দল উপজেলার ১ নম্বর বাংলাবাজার ইউনিয়নের কুশিউড়া গ্রামে একটি পরিকল্পিত অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানকালে কুশিউড়া গ্রামের একটি চিহ্নিত বসতঘরে আকস্মিক তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিকালে ৬৩০ পিস ইয়াবাসহ হাতেনাতে হোসনা আরা বেগমকে আটক করতে সক্ষম হন অভিযানকারী দলের সদস্যরা। গ্রেফতারকৃত হোসনা আরা বেগম উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের কিরনপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আয়াজ আলীর স্ত্রী।
প্রাথমিক অনুসন্ধান ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে এবং সাধারণ মানুষের সন্দেহ এড়াতেই মূলত স্থানীয় মাদক সিন্ডিকেটগুলো কৌশল হিসেবে নারীদের ব্যবহার করে আসছিল। সীমান্ত এলাকা দিয়ে নিয়ে আসা এসব মাদকের ছোট-বড় চালান এভাবে গ্রামীণ বসতবাড়িতে মজুদ করে পরে সুবিধাজনক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়া হতো। উদ্ধারকৃত চালানের নেপথ্যে থাকা মূল চক্রের সদস্যদের খুঁজে বের করতে কাজ শুরু করেছে পুলিশ।
অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে দোয়ারাবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তরিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, সীমান্তবর্তী এই এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ধৃত আসামির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু করে সুনামগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়েছে। মাদক কারবারিদের শিকড় উপড়ে ফেলতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তথ্য দিয়ে সহায়তার জন্য স্থানীয় অধিবাসীদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানান তিনি।


