২০৩০ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ফুটবল দলকে নতুনভাবে গড়ে তুলছেন কোচ মরিসিও পচেত্তিনো। সেই পরিকল্পনায় তরুণ প্রতিভাদের সুযোগ দেওয়ার ধারাবাহিকতায় এবার জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ১৬ বছর বয়সী ফুটবলার কাভান সুলিভান।
আসন্ন আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচগুলোর জন্য পচেত্তিনোর ঘোষিত ২৮ সদস্যের দলে জায়গা পেয়েছেন সুলিভানসহ আটজন তরুণ ফুটবলার। যুক্তরাষ্ট্র আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোতে পেরুর বিপক্ষে মাঠে নামবে। এরপর চিলি, মেক্সিকো ও কানাডার বিপক্ষে খেলবে তারা। এই ম্যাচগুলোতেই নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
কাভান সুলিভানের সঙ্গে বাংলাদেশের ফুটবলের পারিবারিক যোগসূত্র রয়েছে। তিনি রোনান ও ডেকলান সুলিভানের ভাই, যারা বাংলাদেশি বয়সভিত্তিক জাতীয় দলের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তাদের নানি সুলতানা বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সেখানে বসতি গড়েন। সেই পারিবারিক শিকড়ের উত্তরসূরি কাভান এখন যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলে নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করছেন।
ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের হয়ে মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) খেলছেন এই কিশোর। বয়সের তুলনায় পেশাদার ফুটবলে তার অভিজ্ঞতাও বেশ উল্লেখযোগ্য। এখন পর্যন্ত এমএলএসে ১৬টি ম্যাচে শুরুর একাদশে মাঠে নেমে ছয়টি গোল করেছেন তিনি। পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও নয়টি গোল। অর্থাৎ শুধু গোল করার ক্ষেত্রেই নয়, আক্রমণভাগে সুযোগ তৈরি করতেও তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর ১৭ বছরে পা দেবেন সুলিভান। এর আগেই জাতীয় দলের দরজা খুলে যাওয়ায় তার ক্যারিয়ারে এটি বড় একটি মাইলফলক হয়ে উঠেছে। ক্লাব পর্যায়ে তার পারফরম্যান্স ইতিমধ্যে ইউরোপের শীর্ষ পর্যায়ের ক্লাবগুলোরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে আগ্রহের খবরও সামনে এসেছে। ১৮ বছর বয়সে তার ইতিহাদ স্টেডিয়ামে যাওয়ার কথা রয়েছে।
সুলিভানের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ পচেত্তিনোও। যুক্তরাষ্ট্রের কোচ তার গোল করা এবং সতীর্থদের গোল করানোর দক্ষতার প্রশংসা করেছেন। মাত্র ১৬ বছর বয়সে এমএলএসের মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পেশাদার লিগে নিয়মিত পারফর্ম করাকে তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন।
তবে ক্লাব ফুটবল আর আন্তর্জাতিক ফুটবল এক নয়। জাতীয় দলের হয়ে প্রতিটি ম্যাচেই প্রতিপক্ষ, পরিবেশ ও প্রত্যাশার মাত্রা ভিন্ন থাকে। পচেত্তিনোর পরিকল্পনায় সুলিভানের মতো তরুণদের সেই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে নিজেদের প্রস্তুত করার সুযোগ দেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত চুক্তি নবায়ন করেছেন পচেত্তিনো। দীর্ঘমেয়াদি এই পরিকল্পনায় অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের ফুটবলারদেরও গড়ে তুলতে চান তিনি। বর্তমান স্কোয়াডে ১৩ জন অভিজ্ঞ খেলোয়াড় থাকলেও তরুণদের জন্যও রাখা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা।
তবে আসন্ন ম্যাচগুলোর আগে যুক্তরাষ্ট্র দলে কিছু অনুপস্থিতিও রয়েছে। চোটের কারণে ক্রিস্টিয়ান পুলিসিক ও ফোলারিন বালোগান দলে নেই। ফলে তরুণ খেলোয়াড়দের কয়েকজনের সামনে নিজেদের সামর্থ্য দেখানোর বাড়তি সুযোগ তৈরি হয়েছে।
পচেত্তিনোর অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন যাত্রার শুরু পেরুর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। এরপর চিলি, মেক্সিকো ও কানাডার বিপক্ষে মাঠে নামবে দলটি। এই সিরিজে কাভান সুলিভানের অভিষেক হয় কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়। তবে জাতীয় দলের স্কোয়াডে জায়গা পাওয়ার মধ্য দিয়েই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই কিশোর যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় নিজের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন।


