নড়াইল জেলা আদালতে একটি মামলার হাজিরা দিতে এসে দেশীয় অস্ত্রসহ পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন ১১ জন। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আদালত চত্বরের এক আইনজীবীর চেম্বারে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। আদালত চত্বরের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং সুরক্ষিত এলাকায় রামদা ও চাপাতির মতো বিপজ্জনক অস্ত্র নিয়ে আসামিদের প্রবেশের ঘটনায় পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিরা নড়াইলের নড়াগাতি থানার কলাবাড়িয়া ইউনিয়নের চরকান্দিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তাদের নাম—এসকেন্দার শেখ, আমিনুর শিকদার, হাফেজ শেখ, তৈয়েবুর রহমান, সেকেন্দার আলী, হাসানুর রহমান, রিয়াজুল শিকদার, আরিফুল শেখ, তারেখ শেখ, জুলফিকার মোল্যা এবং শরিফুল মোল্যা। তারা সবাই নড়াগাতি থানা এলাকায় পূর্বের একটি মারামারির ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় অভিযুক্ত আসামি ছিলেন। রোববার দুপুরে সেই পূর্ব নির্ধারিত মামলার হাজিরা দিতে তারা নড়াইল সদরে অবস্থিত জেলা আদালতে পৌঁছান।
আদালত ভবনের কাছেই এক আইনজীবীর চেম্বারে অবস্থানকালে নড়াইল সদর থানা পুলিশ গোপন সূত্রের মাধ্যমে খবর পায় যে কয়েকজন লোক বিপজ্জনক জিনিসপত্র বহন করছে। এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করতে নড়াইল সদর থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল আইনজীবীর ওই চেম্বারে দ্রুত অভিযান চালায়। সেখানে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ আসামিদের কাছ থেকে ১২টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে রামদা, চাপাতি এবং বেশ কয়েকটি ধারালো দা। উপস্থিত লোকজনের উপস্থিতিতেই অস্ত্রগুলো জব্দ করা হয় এবং ১১ জনকেই সাথে সাথে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসেল সরোয়ার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিচারালয়ের মতো সংবেদনশীল স্থানে অস্ত্র নিয়ে ঢোকার বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। অস্ত্রসহ আটকের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে এবং তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। একই সাথে তারা কেবল আতঙ্কের উদ্দেশ্যে নাকি বিচারালয়ে অন্য কোনো সহিংস বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর ষড়যন্ত্র করছিল, তা খতিয়ে দেখতে নিবিড় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। অপরাধ দমনে আদালতের আশেপাশের নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়েছে।


