চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে নিয়ে উধাও হওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ব্যক্তি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শাহরাস্তি পৌরসভার আহ্বায়ক শেখ রহমত উল্লাহ। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে শাহরাস্তি মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শাহরাস্তি উপজেলার বাহরাইন প্রবাসী ইব্রাহিম খলিলের স্ত্রী মরিয়ম বেগম দীর্ঘদিন ধরে তার শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করছিলেন। অভিযুক্ত শেখ রহমত উল্লাহ সম্পর্কে মরিয়ম বেগমের চাচাতো ভাই। গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে মরিয়ম বেগম তার দুই সন্তানকে রেখে শেখ রহমত উল্লাহর সঙ্গে হঠাৎ নিখোঁজ হন। ঘটনার পর থেকে তাদের দুজনের ব্যবহৃত মুঠোফোন বন্ধ রয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, মরিয়ম বেগম ও রহমত উল্লাহর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই একটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক চলছিল। বিষয়টি সম্পর্কে স্বজনরা জানতে পারলে পরিবারে অশান্তি ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। সম্প্রতি ঘটনাটি পারিবারিকভাবে জানাজানি হওয়ার পর পরই দুজনে একসঙ্গে বাড়ি ছেড়ে চলে যান। যাওয়ার সময় মরিয়ম বেগম বাড়ি থেকে নগদ টাকা ও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার সাথে করে নিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ করেছেন তার শ্বশুর।
ঘটনার দিন রাতেই পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন সম্ভাব্য স্থানে দুজনের খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কোনো সন্ধান না পেয়ে রোববার সকালে ইব্রাহিম খলিলের দুই শিশু সন্তান ফাতেহা জাহান (১০) ও ফারহান জাহান (৬)-কে সাথে নিয়ে শাহরাস্তি থানায় যান মরিয়ম বেগমের শ্বশুর হারুনুর রশিদ। একই সময়ে রহমত উল্লাহর স্ত্রীও স্বজনদের সাথে থানায় উপস্থিত হন। ১০ এবং ৬ বছর বয়সী অবুঝ দুই সন্তান তাদের মায়ের খোঁজে থানায় কেঁদে আকুল হয় এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে মাকে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানায়।
ইব্রাহিম খলিলের ভগ্নিপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তাদের মধ্যে যে একটা অনৈতিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল, তা আমরা বেশ কিছুদিন আগেই বুঝতে পারি। বিষয়টি প্রবাসে থাকা ইব্রাহিমকেও জানানো হয়েছিল। পারিবারিক সমঝোতা বা সমাধানের আগেই শনিবার রাতে সুযোগ বুঝে তারা দুজন একসঙ্গে বাড়ি থেকে উধাও হয়ে যান।
অভিযোগকারী ও মরিয়ম বেগমের শ্বশুর হারুনুর রশিদ লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, তার ছেলে বিদেশে কঠোর পরিশ্রম করে পরিবার পরিচালনা করছিল। কিন্তু সুযোগ বুঝে পুত্রবধূ ঘর থেকে সমস্ত জমানো নগদ অর্থ ও মূল্যবান স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে গেছে। এর ফলে পরিবারটি আর্থিক ও সামাজিকভাবে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছে।
এ বিষয়ে শাহরাস্তি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান জানান, প্রবাসীর স্ত্রীকে নিয়ে রাজনৈতিক নেতার চলে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের অবস্থান শনাক্ত করা এবং উদ্ধার অভিযান জোরদার করার জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।


