কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান বিভিন্ন সরকারি ও চাকরির লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া স্থানীয় প্রার্থীদের সহায়তা করার আগ্রহ ব্যক্ত করেছেন। চাকরির প্রতিযোগিতামূলক লিখিত পরীক্ষায় পাস করার পর প্রার্থীরা যেন তাঁদের প্রবেশপত্রসহ সরাসরি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন, সেই আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার মৃগা ইউনিয়নের আমিরগঞ্জ-জনতাগঞ্জ বাজারে আয়োজিত একটি সুধী সমাবেশ ও জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই বার্তা দেন।
জনসভায় দীর্ঘ বক্তব্যকালে সংসদ সদস্য স্থানীয় যুবসমাজের কর্মসংস্থান ও চিকিৎসার নানা দিক তুলে ধরেন। তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, আমিরগঞ্জ-জনতাগঞ্জসহ আশপাশের বহু গ্রামের মেধাবী ছেলেমেয়ে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে লিখিত পরীক্ষায় সফল হলেও মৌখিক পরীক্ষা বা ভাইভায় গিয়ে বাদ পড়ে যাচ্ছে। অনেক যোগ্য প্রার্থী চাকরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই পরিস্থিতির পরিবর্তনের আশ্বাসে তিনি বলেন, কোনো পরীক্ষার্থী লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া মাত্রই যেন প্রবেশপত্র নিয়ে তাঁর কার্যালয় বা তাঁর কাছে চলে আসে। প্রার্থীর যোগ্যতানুযায়ী যেখানে প্রয়োজন, তিনি সেখানে নিজ দায়িত্বে মুঠোফোনে কথা বলে সুপারিশ ও যোগাযোগের ব্যবস্থা করে দেবেন।
উপস্থিত সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে ফজলুর রহমান জানান, মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং অসহায়দের সাহায্য করাকে তিনি ব্যক্তিগত মানবিক দায়িত্ব বলে মনে করেন। নিজ এলাকার মারাত্মক অসুস্থ ও আর্থিক অনটনে থাকা পরিবারগুলোকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, সুবিধাবঞ্চিত রোগীদের ঢাকায় নিয়ে গিয়ে স্বল্প খরচে উন্নত চিকিৎসার সার্বিক বন্দোবস্ত তিনি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে করবেন। তবে সততা ও স্বচ্ছতার প্রশ্নে নিজের কঠোর অবস্থানের কথা স্পষ্ট জানিয়ে দেন এই আইনপ্রণেতা। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি কোনো ব্যক্তি অর্থের বিনিময়ে বা দালাল মারফত তাঁর কাছে তদবির করতে আসে, তবে সেই প্রার্থীর চাকরি তো হবেই না, বরং লেনদেনে জড়িতদের কঠোর আইনি জটিলতায় পড়তে হবে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে নিজের বা পরিবারের জন্য কোনো আর্থিক অনৈতিক সুবিধা তিনি কোনোদিন গ্রহণ করেননি এবং ভবিষ্যতেও করবেন না।
মৃগা ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এই জনসভায় স্থানীয় একাধিক রাজনৈতিক প্রতিনিধি ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা অংশ নেন। সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম রেখা, ইটনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম কামাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুজ্জামান ঠাকুর স্বপন, সিনিয়র সহ-সভাপতি ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মনির উদ্দিন এবং সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারী এনামুল হক মোল্লাসহ স্থানীয় বিএনপি ও এর বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের সর্বস্তরের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী।


