ব্রাজিল জাতীয় দলের বিখ্যাত ১০ নম্বর জার্সির নতুন মালিক হচ্ছেন রাফিনিয়া। নেইমার জুনিয়রের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তির পর বার্সেলোনার এই ফরোয়ার্ডের হাতে উঠছে ব্রাজিল ফুটবলের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ জার্সি। সিদ্ধান্তটি শুধু জার্সি নম্বর পরিবর্তনের ঘটনা নয়; এর মধ্য দিয়ে নেইমার-পরবর্তী সময়ে ব্রাজিলের আক্রমণভাগে নেতৃত্বের পরিবর্তনের ইঙ্গিতও মিলছে।
নেইমার ব্রাজিলের হয়ে ১৩০ ম্যাচে ৮০ গোল করে জাতীয় দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে ক্যারিয়ার শেষ করেছেন। পেলের ৭৭ গোলের রেকর্ড পেরিয়ে ২০২৩ সালে তিনি এই কীর্তি গড়েন।
জাতীয় দলের হয়ে নেইমারের যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০১০ সালে। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি ব্রাজিলের অন্যতম প্রধান তারকা হয়ে ওঠেন এবং ১০ নম্বর জার্সির সঙ্গে তার নাম প্রায় সমার্থক হয়ে যায়। ২০২৬ বিশ্বকাপেও তিনি এই নম্বর পরেছেন। এর মাধ্যমে চারটি বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ১০ নম্বর জার্সি পরা দ্বিতীয় খেলোয়াড় হন নেইমার; এর আগে একই কীর্তি ছিল শুধু পেলের।
নেইমারের বিদায়ের পর সেই ঐতিহ্যবাহী জার্সি এখন রাফিনিয়ার হাতে। ২৯ বছর বয়সী এই ফুটবলার সাম্প্রতিক সময়ে ব্রাজিলের আক্রমণভাগের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে উঠেছেন। ক্লাব ফুটবলে বার্সেলোনার হয়ে তার পারফরম্যান্সও তাকে দলের অন্যতম পরিচিত আক্রমণাত্মক খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে।
রাফিনিয়ার সঙ্গে ব্রাজিলের ১০ নম্বর জার্সির সম্পর্ক অবশ্য একেবারে নতুন নয়। ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য ঘোষিত ব্রাজিলের স্কোয়াডে নেইমার ছিলেন ১০ নম্বরে, আর রাফিনিয়া পরেছিলেন ১১ নম্বর। এবার সেই বিন্যাস বদলে যাচ্ছে।
ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে ১০ নম্বর জার্সির গুরুত্ব আলাদা। পেলে এই নম্বরকে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম প্রতীকী পরিচয়ে পরিণত করেছিলেন। পরে জিকো, রিভালদো ও রোনালদিনহোর মতো তারকারাও জার্সিটির মর্যাদা আরও বাড়িয়েছেন। ফলে রাফিনিয়ার গায়ে এই নম্বর ওঠার সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই অতীতের সেই কিংবদন্তিদের স্মৃতি ফিরে আসবে।
তবে রাফিনিয়াকে নেইমারের সরাসরি বিকল্প হিসেবে দেখার বিষয়টি এতটা সরল নয়। দুজনের খেলার ধরন ও ক্যারিয়ারের পথ আলাদা। নেইমার দীর্ঘ সময় ধরে ব্রাজিলের সৃজনশীলতা, গোল করার দক্ষতা এবং আক্রমণ পরিচালনার অন্যতম কেন্দ্র ছিলেন। রাফিনিয়ার সামনে তাই নিজের সামর্থ্য ও নিজস্ব ফুটবল দিয়ে নতুন পরিচয় তৈরি করার সুযোগ রয়েছে।
ব্রাজিলের জন্যও এটি একটি পরিবর্তনের সময়। নেইমারের আন্তর্জাতিক অধ্যায়ের পর দলের আক্রমণভাগে নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের ওপর নির্ভরতা বাড়বে। সেই প্রক্রিয়ায় রাফিনিয়ার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
১০ নম্বর জার্সি পাওয়ায় তার ওপর প্রত্যাশাও বাড়বে। তবে এই নম্বরের প্রকৃত মূল্য নির্ধারিত হবে মাঠের পারফরম্যান্সে। ব্রাজিলের হলুদ জার্সিতে রাফিনিয়া এখন এমন একটি অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছেন, যেখানে তাকে নিজের সামর্থ্যে ১০ নম্বরের নতুন পরিচয় তৈরি করতে হবে।
নেইমারের রেখে যাওয়া ইতিহাস বিশাল। সেটি মুছে ফেলার দায়িত্ব রাফিনিয়ার নয়। বরং তার সামনে রয়েছে একই জার্সি পরে ব্রাজিলের ফুটবলে নিজের আলাদা গল্প লেখার সুযোগ।


