নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে স্ত্রীর চাচাতো বোনকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে আবু হানিফ (৩৩) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযোগকারী তরুণী বর্তমানে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানা গেছে। গ্রেপ্তার হানিফ দুই সন্তানের বাবা।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, আবু হানিফ মোহনগঞ্জ উপজেলার ৪ নম্বর মাঘান সিয়াধার ইউনিয়নের বাখরপুর গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি বিভিন্ন সময় তাঁর স্ত্রীর চাচাতো বোন ওই তরুণীকে প্রেমের প্রস্তাব দিতেন। একপর্যায়ে তাঁকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সিলেটে নিয়ে যান হানিফ। সেখানে একটি বাসা ভাড়া করে তরুণীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরবর্তী সময়ে ওই তরুণী জানতে পারেন, তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়েছেন। বিষয়টি হানিফকে জানানোর পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। তরুণীর অভিযোগ, গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জন্য হানিফ তাঁকে একাধিকবার হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন। একই সঙ্গে তাঁকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ১৩ সেপ্টেম্বর রাতে ওই তরুণী হানিফের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে বিয়ে রেজিস্ট্রি করার জন্য চাপ দেন। এ সময় হানিফ ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এরপর গত মঙ্গলবার ওই তরুণী মোহনগঞ্জ থানায় হানিফের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং বুধবার রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুততার সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। পরে বৃহস্পতিবার তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মামলার পরবর্তী কার্যক্রম আদালতের সিদ্ধান্ত ও তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে এগোবে।
এদিকে, ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে আলোচনার সৃষ্টি করেছে। তবে মামলায় উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি আদালতে অভিযোগের বিরুদ্ধে নিজের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পাবেন।


