ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে সড়ক পারাপারের সময় বেপরোয়া গতির অজ্ঞাত একটি যাত্রীবাহী বাসের চাপায় পিষ্ট হয়ে দুই স্কুলছাত্র নিহত হয়েছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেলের দিকে উপজেলার জামুর্কি বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। চোখের সামনে এমন বীভৎস ঘটনা দেখে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও শোকের ছায়া নেমে আসে।
নিহত দুই কিশোর হলো—জামুর্কি এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা ডালিমের ছেলে রুদ্র (১৩) এবং গাজীপুরের সফিপুর এলাকার পঞ্চুর ছেলে ঝলক (১৪)। নিহতদের স্বজনেরা জানান, ঝলক মূলত রুদ্রের কাকার শ্যালক। কয়েক দিন আগে সে গাজীপুর থেকে জামুর্কি এলাকায় রুদ্রদের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল। দুই স্বজন ও বন্ধু একসাথে মিলে বিকেলের দিকে স্থানীয় বাজারে গিয়েছিল।
পুলিশ ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে জানা যায়, বিকেল গড়াতেই রুদ্র ও ঝলক জামুর্কি বাজার থেকে প্রয়োজনীয় টুকিটাকি কেনাকাটা শেষ করে বাড়ি ফিরছিল। বাড়ি ফেরার পথে জামুর্কি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তারা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক পার হওয়ার চেষ্টা করে। ঠিক সেই মুহূর্তে উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা দ্রুতগতির একটি বাস তাদের তীব্র গতিতে চাপা দিয়ে চলে যায়। বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই দুই কিশোরের করুণ মৃত্যু হয়। ঘাতক বাসটি না থেমে দ্রত ঘটনাস্থল ছেড়ে ঢাকার দিকে পালিয়ে যায়।
দুর্ঘটনার বিকট শব্দ শুনে মুহূর্তের মধ্যেই স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা সড়কে ছুটে আসেন। তবে ততক্ষণে রক্তাপ্লুত অবস্থায় দুই কিশোরের স্পন্দন থেমে গিয়েছিল। স্বজনেরা খবর পেয়ে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে কান কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং কান্নাকাটি করে লাশ দুটি উদ্ধার করে নিজ বাড়িতে নিয়ে যান।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতদের পরিবার ও স্বজনেরা ইতোমধ্যে লাশ বাড়িতে নিয়ে গেছেন। ঘাতক বাসটিকে শনাক্ত করা সম্ভব না হলেও সেটিকে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে আইনগত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


