গাজীপুর মহানগরীর পুবাইলে সড়ক দুর্ঘটনায় রেজুকা বেগম (৩০) ও তাঁর সাড়ে তিন বছর বয়সী মেয়ে রিয়ামনি নিহত হয়েছে। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে ঢাকা বাইপাস সড়কের মেঘডুবি কালি ফ্যাক্টরির কাছে অজ্ঞাতনামা একটি গাড়ির ধাক্কায় মা-মেয়ে গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজনেরই মৃত্যু হয়।
নিহত রেজুকা বেগম শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার বাগহাতা গ্রামের সেকান্দার আলীর মেয়ে। তাঁর স্বামী মনির হোসেন। তিনি গাজীপুর মহানগরীর সদর থানার সালনা বাজার এলাকায় মোস্তফা কামালের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাতে রেজুকা তাঁর মেয়ে রিয়ামনিকে সঙ্গে নিয়ে পুবাইলের মীরের বাজার এলাকায় এক বান্ধবীর বাসায় বেড়াতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে রাতে বাসায় ফেরার পথে ঢাকা বাইপাস সড়কের মেঘডুবি কালি ফ্যাক্টরির কাছে দুর্ঘটনার শিকার হন তাঁরা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, সড়কে একটি অজ্ঞাতনামা গাড়ি মা-মেয়েকে ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। এতে দুজনই গুরুতর আহত হয়ে সড়কের পাশে পড়ে থাকেন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের কেউ বিষয়টি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁদের উদ্ধার করে।
পুবাইল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত দুজনকে উদ্ধার করেন। পরে তাঁদের গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা রেজুকা বেগমকে পরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর মেয়ে রিয়ামনিকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। তবে শিশুটির অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তাকে বাঁচানো যায়নি। রাত আনুমানিক ৩টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রিয়ামনির মৃত্যু হয়।
একই দুর্ঘটনায় মা ও মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিশেষ করে মাত্র সাড়ে তিন বছরের শিশুটির মৃত্যু স্থানীয়দেরও নাড়া দিয়েছে।
পুবাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, রেজুকা বেগম পুবাইলের মীরের বাজার এলাকায় তাঁর এক বান্ধবীর বাসায় বেড়াতে এসেছিলেন। সেখান থেকে ফেরার পথেই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
দুর্ঘটনার পরপরই চালক গাড়িটি নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যাওয়ায় সেটি শনাক্ত করা যায়নি। পুলিশ এখন দুর্ঘটনায় জড়িত গাড়িটি শনাক্ত ও চালককে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছে। এ জন্য ঘটনাস্থলের আশপাশের তথ্য, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং দুর্ঘটনার সময় সড়কে চলাচলকারী যানবাহন সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং জড়িত গাড়িটি শনাক্ত করা গেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে মা-মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করা হচ্ছে।


