ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের আলামত নিষ্পত্তি শাখায় দায়িত্ব পালন করা এক পুলিশ কনস্টেবলকে ১ হাজার ৭৯০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার মো. রেজাউল করিম (৪৫) আদালতে মাদক ধ্বংসের দায়িত্বের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগ থেকে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর সূত্রাপুর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে রেজাউল করিমকে আটক করা হয়। পরে তার কাছ থেকে ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সিআইডি ঢাকা মেট্রো-দক্ষিণের একটি বিশেষ অভিযানকারী দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সূত্রাপুর থানার ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের একটি বিরিয়ানি দোকানে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে রেজাউল করিম সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে তাকে আটক করে তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশির সময় তার পরনের প্যান্টের পকেট থেকে মোট ১ হাজার ৭৯০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা ইয়াবার মোট ওজন ১৭৯ গ্রাম বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশের হিসাবে, এসব ইয়াবার আনুমানিক অবৈধ বাজারমূল্য ৫ লাখ ৩৭ হাজার টাকা।
অভিযানে রেজাউল করিমের কাছ থেকে মাদক বিক্রির অর্থ হিসেবে ৫ হাজার ৫০০ টাকা এবং একটি ভিভো স্মার্টফোনও জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার পর সোমবার ডিএমপির পরিদর্শক মো. কামরুজ্জামান বাদী হয়ে সূত্রাপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন। মামলার পর গ্রেপ্তার পুলিশ সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে প্রসিকিউশন বিভাগ জানিয়েছে।
রেজাউল করিম সিএমএম আদালতের আলামত নিষ্পত্তি শাখার কনস্টেবল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। আদালতে জব্দ করা বিভিন্ন মামলার আলামত সংরক্ষণ, নিষ্পত্তি বা ধ্বংসের প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত নিয়মের অধীনে পরিচালিত হয়। ফলে এ ধরনের দায়িত্বে থাকা কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মাদক-সংশ্লিষ্ট অভিযোগ ওঠা বিষয়টিকে তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
তবে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। মামলার তদন্তে ইয়াবাগুলো কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল, এগুলো কার কাছে সরবরাহের উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হতে পারে।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার করা ইয়াবা, নগদ অর্থ ও মোবাইল ফোন মামলার আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে আদালতে হাজির করা হবে।


