পাবনার ফরিদপুর উপজেলার হাদল ইউনিয়নের কুচলিয়া গ্রাম থেকে ১৫ রাউন্ড চায়না রাইফেলের তাজা গুলি ও দেশীয় তৈরি বিভিন্ন ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। এলাকায় চরমপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা ও আধিপত্য বিস্তারের মুখে রোববার রাতে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে চালানো এক অভিযানে এসব বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র জব্দ করা হয়।
সোমবার দুপুরে ফরিদপুর থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযানের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুরুল হাসান মাসুদ। তিনি জানান, হাদল ইউনিয়নের কুচলিয়া এলাকার একটি বটগাছের নিচে পরিত্যক্ত অবস্থায় লুকানো একটি বস্তা থেকে চায়না রাইফেলের ১৫ রাউন্ড তাজা গুলি, একটি চাপাতি, একটি বাট, একটি চাকুর পাশাপাশি বিভিন্ন আকারের তিনটি ধারালো দা পাওয়া গেছে। উদ্ধার করা এসব আলামত থানায় আনা হয়েছে এবং এর পেছনের চক্রটিকে ধরতে অনুসন্ধান চলছে।
বিলে বেষ্টিত হাদল ইউনিয়নের ভৌগোলিক অবস্থানের সুযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বেশ কিছু সশস্ত্র চরমপন্থি ও সর্বহারা গোষ্ঠী তাদের কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। দুর্গম এই অঞ্চলে রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব প্রতিষ্ঠার প্রতিযোগিতা তৈরি হওয়ায় এলাকাটিতে একাধিক গ্রুপের উপস্থিতি রয়েছে। ওসির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই গোষ্ঠীগুলো মূলত জলমহাল, জলাশয় ও ভূমি দখল, চাঁদাবাজি, লুটতরাজ, চুরি ও ছিনতাইসহ নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দাদের জিম্মি করে রেখেছে।
হাদল এলাকায় এর আগেও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একাধিকবার সশস্ত্র সংঘাত ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। শুধু তা-ই নয়, এসব সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপের অন্তর্দ্বন্দ্ব এবং রক্তক্ষয়ী সংঘাতের জেরে ওই অঞ্চলে হত্যাকাণ্ড ও গুমের মতো একাধিক চাঞ্চল্যকর অপরাধ সংগঠিত হয়েছে। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ফরিদপুর থানায় অস্ত্র আইন, হত্যা ও অপহরণের অভিযোগে বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে।
সম্প্রতি এলাকাটিতে চরমপন্থিদের তৎপরতা বৃদ্ধির খবর পাওয়ার পর থেকে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বাড়তি উদ্যোগ নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন সার্বিক নজরদারি বৃদ্ধি করেছে। এমনকি অপরাধীদের সাময়িক জড়ো হওয়ার ঝুঁকি এড়াতে সম্প্রতি ওই এলাকায় আয়োজিত একটি নৌকাবাইচ অনুষ্ঠানও বন্ধ করে দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আরিফুল ইসলাম, এসআই আশরাফুল ইসলামসহ স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ কর্মকর্তা জানান, দুর্গম বিলে বিচরণকারী এসব অবৈধ অস্ত্রধারীদের শেকড় উপড়ে ফেলতে ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশের এই চিরুনি অভিযান ও বিশেষ টহল জোরদার থাকবে।


