ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ এলাকায় বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ ও ক্ষতিকর মাদক বিক্রির সময় ২০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মো. রিংকু ইসলাম (৩৫) নামের এক চিহ্নিত ও পেশাদার মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি-দক্ষিণ)। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এক আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঢাকা জেলা ডিবির (দক্ষিণ) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশফাক রাগীব হাসান।
গোয়েন্দা পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্র থেকে জানা গেছে, গোপন সংবাদ ও সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ ও চৌকস দল সোমবার ভোররাতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার শুভাঢ্যা পশ্চিমপাড়া শান্তিনগর এলাকার তিন রাস্তার মোড়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। ওই এলাকায় ডিবির টহল দল উপস্থিত হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করেন রিংকু ইসলাম। তবে ডিবির সদস্যরা তৎপরতা চালিয়ে তাকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে হাতেনাতে আটক করে। পরবর্তীতে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে তার দেহ তল্লাশি চালিয়ে ২০০ পিস অবৈধ ও নিষিদ্ধ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ডিবির ওসি আশফাক রাগীব হাসান জানান, গ্রেপ্তারকৃত রিংকু ইসলামকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে যে সে কোনো সাধারণ বা অপেশাদার অপরাধী নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে এলাকাভিত্তিক মাদকের অবৈধ কারবার চালিয়ে আসছিল। দেশের দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্ত ও অন্যান্য প্রধান সরবরাহকারী অঞ্চলের পাইকারি মাদক কারবারিদের কাছ থেকে এসব ইয়াবা ট্যাবলেট সংগ্রহ করত সে। পরবর্তীতে সংগৃহীত এই মাদক কেরানীগঞ্জ, হাসনাবাদ, শুভাঢ্যাসহ রাজধানীর উপকণ্ঠের বিভিন্ন এলাকার খুচরা বিক্রেতা ও সেবীদের কাছে নিয়মিত সরবরাহ ও বণ্টন করা হতো।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিশ্চিত করেছে যে, গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) সারণির ১০ (ক) ধারায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছে ডিবি পুলিশ। রিংকুর মাদকের মূল উৎস, আর্থিক লেনদেন এবং এর পেছনে নেপথ্যে থাকা অন্যান্য মূল হোতা ও সিন্ডিকেট সদস্যদের বিস্তারিত পরিচয় উদ্ধারের লক্ষ্যে তাকে ঢাকা বিচারিক আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ডিবির পক্ষ থেকে তাকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিজ্ঞ আদালতে কয়েক দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়েছে।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের মতো শিল্প ও আবাসিক ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় মাদকের ভয়াবহ বিস্তার রুখতে ও তরুণ সমাজকে রক্ষায় গোয়েন্দা পুলিশের এই অভিযান ও জিরো টলারেন্স নীতি ভবিষ্যতেও কঠোরভাবে অব্যাহত থাকবে বলে ডিবির উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান।


