নিহত আমেনা খানম বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। তিনি উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন এবং অবসর নেওয়ার পর বরিশাল নগরীতে বসবাস করছিলেন। কাউনিয়া এলাকায় প্রায় এক বছর আগে তিনি একটি বাসার দ্বিতীয় তলা ভাড়া নেন। সেখানে তিনি একাই থাকতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে ওই বাড়ির পাশের একটি কক্ষ থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। বিষয়টি বাড়ির মালিক রিনা বেগমের নজরে আসে। পরে তিনি আমেনা খানমের ছেলে রিফাতকে বিষয়টি জানান। রিফাত ঢাকায় একটি বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত। মায়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে সাড়া না পেয়ে তিনি পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ভোরে ঘটনাস্থলে যায়। বাড়ির দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটটির দরজা বাইরে থেকে তালাবদ্ধ অবস্থায় ছিল। পরে পুলিশ তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে আমেনা খানমের মরদেহ খাটের ওপর পড়ে থাকতে দেখে। তাঁর হাত-পা কাপড় দিয়ে বাঁধা ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার সুশান্ত সরকার জানান, নিহতের ছেলের কাছ থেকে ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। বাসার দরজা তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়ার পর সেটি খুলে ভেতরে প্রবেশ করা হয়। সেখানে খাটের ওপর হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ওই নারীর মরদেহ পাওয়া যায়।
পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় এখনো হত্যার উদ্দেশ্য, ঘটনার সময় এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি পুলিশ। বাসাটি কেন তালাবদ্ধ ছিল এবং আমেনা খানমের সঙ্গে শেষ সময়ে কারা যোগাযোগ করেছিলেন, সেসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহের পাশাপাশি নিহতের পরিচিতজন, বাড়ির অন্যান্য ভাড়াটিয়া ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য নেওয়া হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক নগরীতে একা বসবাস করছিলেন এবং তাঁর মরদেহ হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড কি না, তা তদন্ত ও ময়নাতদন্তের ফলাফলের পরই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।


