চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া থানা এলাকার অ্যাক্সেস রোডে মাদক কারবার ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর গোলাগুলির ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত মুরাদকে তাঁর দুই সহযোগীসহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত অপর দুই আসামি হলেন সুমন ও রুহুল আমিন।
মঙ্গলবার রাতে বাকলিয়া থানা এলাকায় এক ঝটিকা অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেফতার করে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে বুধবার দুপুরে তাঁদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। সিএমপির গণসংযোগ শাখা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অভিযান ও গ্রেফতারের এই বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রোববার রাতে বাকলিয়ার অ্যাক্সেস রোডের পাশে সৈয়দশাহ রোড এলাকায় স্থানীয় মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ও এলাকা দখলকে কেন্দ্র করে দুটি সশস্ত্র অপরাধী গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ শুরু হয়। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের একপর্যায়ে উভয় পক্ষ অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। মাঝরাতে বিকট শব্দে একের পর এক গুলির ঘটনায় পুরো এলাকায় প্রচণ্ড ভয়াবহতা ও চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা দিগ্বিদিক ছুটাছুটি শুরু করেন এবং গৃহবন্দী হয়ে পড়েন।
ঘটনার পরপরই খবর পেয়ে বাকলিয়া থানা-পুলিশের বেশ কয়েকটি টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সেই রাতেই অভিযান চালিয়ে সহিংসতার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ১৫ জনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
তবে সংঘর্ষের মূল পরিকল্পনাকারী ও একটি গ্রুপের মূল নেতা মুরাদ অধরা ছিলেন। পরবর্তীতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাকলিয়া থানা-পুলিশের একটি চৌকস দল মঙ্গলবার রাতে পুনরায় অভিযান চালিয়ে এলাকা ছেড়ে পালানোর সময় প্রধান অভিযুক্ত মুরাদসহ তাঁর দুই সক্রিয় সহযোগী সুমন ও রুহুল আমিনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
সিএমপির সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ জানান, গ্রেফতারকৃত মুরাদের পূর্ববর্তী অপরাধের রেকর্ড (পিসিপিআর) খতিয়ে দেখে সিএমপির বিভিন্ন থানায় অস্ত্র, মাদক ও হিংসাত্মক অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা অন্তত ১৬টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি নগরীর বাকলিয়া ও পার্শ্ববর্তী এলাকার একজন চিহ্নিত অপরাধী।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই কর্মকর্তা আরও জানান, এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং অপরাধী চক্রের অন্য সদস্যদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের বিশেষ চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


