গাজীপুরের টঙ্গীতে তুরাগ নদে মাছ ধরতে গিয়ে স্রোতের টানে নিখোঁজ দুই শিশুর সন্ধানে দ্বিতীয় দিনের মতো উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরি দল। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে জামাইবাজার এলাকার রেলওয়ে ব্রিজের আশপাশে নদীর বিভিন্ন অংশে তল্লাশি চালানো হলেও দুপুর ১২টা পর্যন্ত তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
নিখোঁজ দুই শিশু হলো ১০ বছর বয়সী আবি ইউনুস ও ৯ বছর বয়সী নিরব। আবি ইউনুস টঙ্গীর বউবাজার এলাকার আলী কমিশনারের বাড়ির ভাড়াটিয়া শাহজাহানের ছেলে। নিরব একই এলাকার ভাড়াটিয়া শাহ আলমের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে দুই শিশু তুরাগ নদে মাছ ধরতে যায়। জামাইবাজার এলাকার রেলওয়ে ব্রিজের নিচে মাছ ধরার একপর্যায়ে তারা নদীর স্রোতে ভেসে যায়। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে দ্রুত ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের সদস্যরাও অভিযানে যোগ দেন। নদীর যে অংশে শিশুরা নিখোঁজ হয়েছে, তার আশপাশে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে ডুব দিয়ে তাদের সন্ধান করা হয়।
প্রথম দিন বুধবার রাত সাড়ে ৭টা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চলে। তবে অন্ধকার নেমে আসায় এবং নদীর পরিস্থিতি প্রতিকূল হওয়ায় রাতে অভিযান স্থগিত করা হয়। নিখোঁজ শিশুদের স্বজনেরা রাতভর নদীর তীরে অপেক্ষা করেন। বৃহস্পতিবার সকাল হলে আবারও উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়।
ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা জানান, নদীতে স্রোত থাকায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের অবস্থান শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ ধরনের ঘটনায় স্রোতের কারণে একজনের নিখোঁজ হওয়ার স্থান থেকে মরদেহ বা নিখোঁজ ব্যক্তির অবস্থান কিছুটা দূরে সরে যেতে পারে। সে কারণে ডুবুরি দলকে নদীর একাধিক সম্ভাব্য স্থানে তল্লাশি চালাতে হচ্ছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. শাহিন আলম বলেন, বুধবার বিকেলে দুই শিশুর নিখোঁজের খবর পাওয়ার পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। রাত সাড়ে ৭টার দিকে আলো স্বল্পতা ও প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আবার ডুবুরি দল নিয়ে অভিযান শুরু হয়েছে।
তিনি জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত নিখোঁজ দুই শিশুর সন্ধান পাওয়া যায়নি। তবে তাদের উদ্ধারে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে দুই শিশুর নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাস্থলের আশপাশে স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভিড় বাড়ে। নদীর তীরে স্বজনদের অপেক্ষা ও উৎকণ্ঠার মধ্যে উদ্ধার অভিযান পর্যবেক্ষণ করছেন অনেকে। শিশু দুটির সন্ধান না পাওয়ায় পরিবারগুলোর মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
তুরাগ নদে মাছ ধরতে গিয়ে দুই শিশুর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। উদ্ধারকারী দল নদীর পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সম্ভাব্য স্থানগুলোতে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে।


